আসুন ঐতিহ্য রক্ষা করি


হাবীব আনওয়ার
বাংলাদেশকে বলা হয় নদীমাতৃক দেশ।অসংখ্য নদ-নদী আর খাল-বিল নিয়ে গড়ে উঠেছে সবুজ-শ্যামল-সুন্দর আমাদের এ দেশ।বর্ষায় যখন নদীগুলো তার ভরা যৌবন ফিরে পায়, তখন নদীর গর্জন, লঞ্চ-স্টিমারের পোঁ-পোঁ শব্দ,বন্দরে মানুষের কোলাহল, মাঝিদের মাছ ধরার দৃশ্যগুলো চোখে পড়ে। নদীমাতৃক দেশের বাস্তব দৃশ্য ফোটে ওঠে।এটা অামাদের গর্ব।গৌরব।ঐতিহ্য।
বর্ষার ভর দুপুরে নদীতে সাঁতরিয়ে গোসল, বাঙ্গালীর ঐতিহ্য নৌকা বাইচ দেখার সেই দৃশ্যগুলো আজ শুধু অতীত!
অল্প সময়ের ব্যবধানে নদীগুলো হারাতে বসেছে তার প্রাণ।বর্ষা ছাড়া নদীর বুকজুড়ে ধু-ধু বালুচর, খেলার মাঠ ও সবুজ ধান ক্ষেত ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ে না!!
বিরামহীন বয়ে চলা নদীগুলো ভরাট আর দখলের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
এক সময় যে নদীগুলো পানিতে থৈ থৈ করতো সেখানে আজ ফসলের মাঠ! সময়ের ব্যবধান আর স্বার্থান্বেষী লোভী মানুষের কারণে বিলিন হয়ে যাচ্ছে নদীগুলো। যৌবন হারাতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী নদীগুলো।এর প্রভাব পড়েছে গ্রাম-গঞ্জের খাল-বিলেও। নদী থেকে পানি না আসায় শুকিয়ে  গেছে সব। ফলে কৃষকদের সেচ কাজও থেমে যাচ্ছে! কৃষি কাজ ছাড়ছে বহু কৃষক!!
যেখানে নৌকা চলতো , সেখানে এখন ১০-১৫ তলার দালান-কোঠা! অহরহ অপরিককল্পিত রাস্তা।কোথাও আবার ময়লার স্তুপ!
দায়িত্বশীলদের দায়িত্ববোধের অভাবে নদীগুলো মৃত প্রায়।দেশের প্রাণতুল্য ঐতিহ্যগুলো বিলিনের পথে।প্রতি বছর নদী খননের নামে অর্থ বাজেট হলেও তদারকির অভাবে কাজের কাজ কিছুই হয় না! যার ফলে নদীগুলোকে বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না।
অনেক সময় প্রতাপশালীদের নামে নদী দখল করে দালানকোঠা নির্মানের খবর গণমাধ্যমে আসে।
আমাদের দেশে নদী রক্ষার আইন আছে।কিন্তু নেই তার প্রয়োগ।তাই ভূমিদস্যুরা টাকার জোরে ক্ষমতার প্রতাপে নদী দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছে।যার ফলে আমাদের পরিবেশ বিপর্যায় ও ঐতিহ্য অাজ হুমকির মুখে।
এদেশ আমাদের।এদেশের প্রতি ইঞ্চি জায়গা আমাদের।হোক না তা জলে কিংবা স্থলে।তা রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের।আসুন আমরা একতাবদ্ধ হয়ে আমাদের ঐতিহ্য, দেশের প্রাণতুল্য নদীগুলোকে রক্ষা করি।প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে প্রতিবাদ করি! নদীদস্যুদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই!!
লেখক: শিক্ষার্থী, মেখল মাদরাসা, হাটহাজারী,চট্টগ্রাম।
০১৭ ৯৬ ৯৬ ৬১ ৯৯
My Facebook 

No comments

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ

Powered by Blogger.