ডিজিটাল ভাবনা
ডিজিটাল যুগে,আজকাল সবাই চায় রেডিমেড কিছু।
এখনকার অবিভাবকরা চায় প্রতিষ্ঠিত ছেলে,যার গাড়ি,বাড়ি আছে।যাতে মেয়েকে কষ্ট করা না লাগে।যদিও সেই অবিভাবকদের যখন বিয়ে হইছিলো,তখন তারা প্রায় সবাই ছিলো বেকার।
মাত্র ১৮ -২০ বছরে বিয়েতে বসানো হইছিল তাদের।
জীবনে অনেক কষ্ট,পরীক্ষার পর আজ তারা সাফল্য পেয়েছে,যদিও তা দুনিয়াবি।
কিন্তু ছেলেমেয়েদের বিয়ে বেলায় তারা হাই ক্লাস খুঁজে।আর খুঁজতে খুঁজতে ছেলের মাথার চুল পেকে যায়,মেয়ের বাচ্চা ধারনের ক্ষমতা হারায়।
এসব কিছুতে তাদের কিচ্ছু যায় আসে না।
কারণ সামাজিক স্ট্যাটাস ঠিক না রাখলে তো তাদের চলবে না।
আরেকটি দুঃখের বিষয় হলো,এখনকার মেয়েরাও বাবা মায়ের সাথে তালে তাল মিলিয়ে রেডিমেড পাত্র খুঁজায় ব্যাস্ত।
দু কলম বেশি লেখা পড়া করতে পেরেছে বলে অহংকারে মাটিতে পা পড়ে না।সাথে যদি সুন্দরীও হয় তাহলে তো কথায় নেই।
একেবারে সোনায় সোহাগা হয়ে খুঁজতে থাকে রাজপুত্র।
একটু ধার্মিক মাইন্ডের হলে,তখন হুজুর রাজপুত্র খুঁজতে থাকে আর কি।
না পেলে বলে এ যুগে দ্বীনদার পাত্রের বড়ই অভাব।
এই যে ম্যাম কালো সানগ্লাসটা একটু সরিয়ে দেখুন,দ্বীনদার পাত্রের মোটেও অভাব নেই,বরং আপনার মাঝেই আসল দ্বীনের অভাব রয়েছে প্রচুর পরিমাণে।
সত্যি তো এটাই প্রকৃত দ্বীনদাররা দুনিয়াতে গরীবই হয়।
কারণ তাদের অন্তরে,আল্লাহ ভীতি ও আল্লাহর প্রতি ভালবাসা এমন ভাবে জেঁকে বসে থাকে যে তারা দুনিয়ার সাথে সম্পর্ক করতেও ভয় পায়।
কিন্তু আপনার তো লাগবে মোটা বেতনের রেডিমেড পাত্র।
যাতে দুনিয়ার বুকে কোনো কষ্ট করতে না হয়।আর সরাসরি জান্নাতে চলে যেতে পারেন।
জান্নাত পাওয়া কি এতোই সোজা?
তবে শুনে রাখুন দুনিয়াতে দুঃখ, কষ্ট সহ্য না করে কেউই জান্নাত পাবে না।
জান্নাত পেতে চায়লে আপনাকে দুনিয়ার বুকে কষ্ট সহ্য করাই লাগবে।
আর মুমিনরা কেউই দুঃখ কষ্টের বাইরে নেই।
মাত্র ৪০-৫০ বছরের দুনিয়ার জীবনে সুখে থাকার জন্য আপনি আপনার মূল্যবান যৌবন নষ্ট করে ফেলছেন।
যদিও আপনি জানেন না,প্রকৃত সুখ টাকা পয়সাতে,ধনসম্পদেই পাবেন কিনা।
বিয়ে...একটা ইবাদাত।যেমন আমরা নামাজ পড়ি,কুরআন পড়ি,রোজা করি।
এই ইবাদাত করার নামে ভন্ডামির পরিচয় না দিই।
বেদ্বীনদের কথা বাদ,যারা দ্বীনদার তারা কি বিশ্বাস করেন না,আল্লাহ সকল ক্ষমতার অধিকারী।
তিনিই রিজিকদাতা,তিনিই লালন পালনকারী।ভালো মন্দ, কল্যান অকল্যাণ সবই তাঁর হাতে।
তিনি বান্দার সমস্ত দায় দায়িত্ব নিয়েছেন।তাহলে আমরা কেন ভবিষ্যত নিয়ে এতো চিন্তিত হবো?
দুনিয়ার কয়েকটা জীবনের জন্য কেনো এতো মরিয়া হয়ে সম্পদ খুঁজব?
আল্লাহ ছাড়া তো কেউই কিছু দিতে পারবেন না।গরীবকে বড়লোক,বড়লোক কে গরীব করে দিতে তাঁর এক সেকেন্ডও লাগবে না।
তাই আল্লাহর উপরেই তাওয়াক্কুল করুন।
আখিরাতকে নিয়ে চিন্তা করা অন্তরই দামী,পবিত্র। দুনিয়া নিয়ে চিন্তা করা অন্তুর কলুষিত,অপবিত্র।
সন্তান বড় হয়েছে দ্বীনদার পাত্র পাত্রী দেখে বিয়ে দেন।আল্লাহই উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করে দিবেন।
প্রিয় ভাই বোন,আপনারাও দ্বীনদারিতাকে মূল্যায়ন করুন তাহলে দুনিয়া ও আখিরাত দুজায়গাই সফল হবেন।
ইনশা-আল্লাহ
No comments
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ