শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন সফল বলতে বাধা নেই
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন সফল বলতে বাধা নেই
-----------
আলী আজম:
এই আন্দোলন কতদূর গিয়ে থামবে এখনো জানিনা। তবে ইতোমধ্যে যা ফলাফল দেখছি তা আশানুরূপ। ছাত্ররা ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ভীতি সৃষ্টি করেছে সকল ডিপার্টমেন্টের গাড়ি চালকদের মনে। লাইসেন্স না থাকার কারণে পুলিশ শিক্ষার্থীদের সামনে আত্মসমর্পণ করেছে। মন্ত্রীরা যান চলাচলে অনিয়মের কারণে পিছে হঠতে বাধ্য হয়েছে।আজ আনসার বাহিনীর গাড়ির এক ড্রাইভার লাইসেন্স না থাকার কারণে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দেখে ভয়ে গাড়ি থেকে নেমে পালিয়েছে। সাধারণ লাইসেন্স বিহীন ড্রাইভাররাও এখন চাইলেই গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামছে না। লাইসেন্সধারী ড্রাইভাররা বুঝে শুনে সতর্কভাবে গাড়ি চালাচ্ছে। রাজপথে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। জনমনে কিছুটা হলেও ফিরেছে স্বস্তি।
তবে এর থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ ড্রাইভাররা ভবিষ্যতের জন্য কোনো শিক্ষা গ্রহণ করছেন কিনা সেটা ভাববার বিষয়। যদি শিক্ষা গ্রহণ করেন তাইলে তো ভালো। এই আন্দোলনের ফল দীর্ঘদিন পর্যন্ত জাতি ভোগ করতে পারবে। অন্যথায় সব বৃথা। এই আন্দোলনে সবচে বড়ো লজ্জাটা প্রশাসনের। অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও মন্ত্রী মিনিস্টাররাই দেখা যাচ্ছে অনিয়মের সাথে সবচে বেশি জড়িত। ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসন ও মন্ত্রীদেরই লজ্জা বেশি পেতে হয়েছে ছোটছোট কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছে। দেখা যাচ্ছে প্রায় প্রশাসনের গাড়িতে লাইসেন্স নেই।আর মন্ত্রীরা ধরা খাচ্ছে উলটোপথে চলার কারণে।প্রশাসন ও মন্ত্রীদের লজ্জা থাকলে এরা শিক্ষা নেবে।
তবে এরাতো নির্লজ্জ। এরা আইন বানায় শুধু পাবলিক ও দুর্বলদের জন্য। অথচ আইন সবার জন্য সমান হবার কথা ছিল। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে দেশের প্রতিটি ডিপার্টমেন্ট ও সেক্টরে যে অনিয়ম ও জবরদস্তি চলছে তার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে।শিক্ষার্থীরা খুলে দিয়েছে অন্যায় অনাচার ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ক্রমশ বন্ধ হয়ে আসা জনগণের চোখ। আর দেখিয়ে দিয়েছে শান্তিপূর্ণ যৌক্তিক আন্দোলন কীভাবে পরিচালনা করতে হয়। শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছে। কিন্তু আজও অনিয়মে জড়ায়নি তারা। তারা লড়ে যাচ্ছে। তবে কোনোপ্রকার ছাড় দিতে নারাজ। এই আন্দোলন সরকার, প্রশাসনের জন্য লজ্জা। এই আন্দোলন সরকার বিরোধীদের জন্য লজ্জা। সর্বোপরি এই আন্দোলন সফলই বলা যায়।
এগিয়ে যাও প্রিয় বেটারা। জয় তোমাদের হবেই হবে।ইনশাআল্লাহ
No comments
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ