কুরআনের শব্দে শব্দে জীবনের অর্থ।
শায়েখ হারুন ইযহার দা.বা.

শব্দ:العاقبة -১ম পর্ব

[আলকুরআনের দারস-রমাদান]

"যার শেষ ভালো তার সব ভালো"- একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ বাক্য, যার তাৎপর্য কারো অজানা নয়। বাক্যটিকে যদি বিপরীতকরণ করা হয়  তবে তা হবে এরকম - "যার শেষ খারাপ তার সব খারাপ"।
সংঘাতে,সংকটে মুখর, চড়াই-উৎরায়ে দৌদুল্যমান জীবনের জন্য পরিণতি  ও পরিণাম শব্দটি বড়ই চাঞ্চল্যকর অনুভূতি সৃষ্টকারী।  অস্থির জীবনধারার স্থীর দৃষ্টিটি সর্বদা নিবদ্ধ থাকে পরিণামের দিকে। আমরা  বলে থাকি - "দেখা যাক শেষ হাসি কে হাসে"। হয়তো এর মাধ্যমে আমরা এটা বোঝানোর চেষ্টা করি যে কালের বর্তমানে দুঃখের গ্লানী কালেরই ভবিষ্যতে আনন্দের হাসি দ্বারা রুপান্তরিত হতে পারে। শত ব্যর্থতা, ক্লেদ আর যন্ত্রনার বন্ধুর পথ অতিক্রম করে জীবনের মাঝ বেলায় কিংবা পড়ন্ত বেলায় হোক কোনভাবে যদি সফলতার আলো দিগন্তে উঁকি মারে তবে তখনই বলা যাবে - শেষ ভালো যার সব ভালো তার। বলা যাবে - দেখা গেলোতো শেষ হাসি কে হাসলো। জয় পরাজয়ের বেলায়, সফলত আর ব্যর্থতার ঘূর্ণায়মান লুকোচুরিতে কোন না কোন এক পক্ষ শেষ হাসি হাসে। কোন এক পক্ষ শুভ পরিণাম দ্বারা ধন্য হয়, অপর পক্ষ বহন করে অমঙ্গল জনক পরিণামের অভিশাপ।
জীবন বিচিত্রার এমন স্পর্শকাতর বিষয়টি কিভাবে এড়িয়ে যেতে পারে আল কুর'আন। বরং আল্লাহ্‌র বাণী থেকেই কেবল আসা করা যায় এ ব্যপারে যথার্ত ও সঠিক ধারণা অ সুষ্ঠু নির্দেশনা। কুর'আনের আঁকে বাঁকে সন্ধানে মিলবে এমনি একটি শব্দের। শব্দটি হলো "العا قبة" বা "আল আ'কিবাতু"।
শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো উত্তম প্রতিদান, দ্বিতীয় অর্থ হলো প্রত্যেক বস্তুর শেষ ও সমাপ্তি (পরিণাম)। উভয় অর্থে পবিত্র কুর'আনে এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। কুর'আনে যত স্থানে العا قبة للمتقين  বলা হয়েছে সবস্থানে প্রথম অর্থটি বুঝানো হয়েছে। যেমন নুহ আঃ এর ঘটনা বিবরণী তুলে ধরার পর আল্লাহ্‌  পাক হযরত মুহাম্মদ সাঃ কে সম্বোধন করে বলেনঃ
تِلْكَ مِنْ أَنبَاءِ الْغَيْبِ نُوحِيهَا إِلَيْكَ مَا كُنتَ تَعْلَمُهَا أَنتَ وَلَا قَوْمُكَ مِن قَبْلِ هَٰذَا فَاصْبِرْ إِنَّ الْعَاقِبَةَ لِلْمُتَّقِينَ
অর্থঃ এটি গায়েবের খবর, আমি আপনার প্রতি ওহী প্রেরন করেছি। ইতিপূর্বে এটা আপনার এবং আপনার জাতির জানা ছিল না। আপনি ধৈর্য্যধারণ করুন। নিঃসন্দেহে যারা ভয় করে চলে, তাদের জন্য রয়েছে ভালো পরিণাম। (সূরা হুদঃ ৪৯)

কাফেরদের পরিণতিঃ

আবার কুর'আনে কারীমের মাঝে এ শব্দটি যখন কাফেরদের জন্য ব্যবহার হয়েছে তখন তা শুধু দ্বিতীয় অর্থকে বুঝিয়েছে। যেমন আল্লাহ্‌ পাক বলেনঃ
قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ ثُمَّ انظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ
অর্থঃ বলে দিন তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর, অতপর দেখ, মিথ্যারোপ কারীদের পরিণাম কি হয়েছে? (সুরাহ আনআমঃ১১)
আল্লাহ্‌ পাক হযরত নুহ, হযরত হূদ, সালেহ, হযরত লুত, হযরত শোয়াইব এবং সর্বশেষ হযরত মুসা (আঃ) গণের দাওয়াতি তৎপরতা এবং স্ব স্ব সম্প্রদায় কর্তৃক নবীগণের দাওয়াতি আন্দোলনের বিরোধিতার কথা উল্লেখ করে বলেনঃ
تِلْكَ الْقُرَىٰ نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنبَائِهَا وَلَقَدْ جَاءَتْهُمْ رُسُلُهُم بِالْبَيِّنَاتِ فَمَا كَانُوا لِيُؤْمِنُوا بِمَا كَذَّبُوا مِن قَبْلُ كَذَٰلِكَ يَطْبَعُ اللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِ الْكَافِرِينَ وَمَا وَجَدْنَا لِأَكْثَرِهِم مِّنْ عَهْدٍ وَإِن وَجَدْنَا أَكْثَرَهُمْ لَفَاسِقِينَ ثُمَّ بَعَثْنَا مِن بَعْدِهِم مُّوسَىٰ بِآيَاتِنَا إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ فَظَلَمُوا بِهَا
অর্থঃ এগুলো হল সে সব জনপদ যার কিছু বিবরণ আমি আপনাকে অবহিত করছি। আর নিশ্চিতই ওদের কাছে পৌছেছিলেন রসূল নিদর্শন সহকারে। অতঃপর কস্মিনকালও এরা ঈমান আনবার ছিল না, তারপরে যা তার ইতিপূর্বে মিথ্যা বলে প্রতিপন্ন করেছে। এভাবেই আল্লাহ কাফেরদের অন্তরে মোহর এঁটে দেন। আর তাদের অধিকাংশ লোককেই আমি প্রতিজ্ঞা বাস্তবায়নকারীরূপে পাইনি; বরং তাদের অধিকাংশকে পেয়েছি হুকুম অমান্যকারী। অতঃপর আমি তাদের পরে মূসাকে পাঠিয়েছি নিদর্শনাবলী দিয়ে ফেরাউন ও তার সভাসদদের নিকট। বস্তুতঃ ওরা তাঁর মোকাবেলায় কুফরী করেছে।
এরপর আল্লাহ্‌ পাক ইরশাদ করেনঃ
فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ
অর্থঃ সুতরাং চেয়ে দেখ কি পরিণতি হয়েছে অনাচারীদের। (সূরা আ'রাফঃ ১০১-১০৩)
সত্য-মিথ্যার লড়াইয়ে একপক্ষকে আল্লাহ্‌ পাক সংকট থেকে উদ্ধার করেন আর অপর পক্ষকে খারাপ পরিণামের মুখোমুখি করেন, নুহ আঃ এর কওম সম্পর্কে এমনি ভয়ানক পরিণামের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আল্লাহ্‌ পাক বলেনঃ
فَكَذَّبُوهُ فَنَجَّيْنَاهُ وَمَن مَّعَهُ فِي الْفُلْكِ وَجَعَلْنَاهُمْ خَلَائِفَ وَأَغْرَقْنَا الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُنذَرِينَ
অর্থঃ তারপরও এরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। সুতরাং তাকে এবং তার সাথে নৌকায় যারা ছিল তাদের কে বাঁচিয়ে নিয়েছি এবং যথাস্থানে আবাদ করেছি। আর তাদেরকে ডুবিয়ে দিয়েছি যারা আমার কথাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। সুতরাং লক্ষ্য কর, কেমন পরিণতি ঘটেছে তাদের যাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছিল। (সূরা ইউনুছঃ৭৩)
এ পরিণতি আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে প্রতিশোধ স্মরণ।  ইরশাদ হচ্ছেঃ
فَانتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ
অর্থঃ অতঃপর আমি তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিয়েছি। অতএব দেখুন, মিথ্যারোপকারীদের পরিণাম কিরূপ হয়েছে। (সূরা যুখরুফহঃ ২৫)

সে পরিণতি থেকে
শিক্ষা নাও!

ইসলামী দাওয়াত কে প্রত্যাখ্যান এবং এ দাওয়াতি আন্দোলনের ঝান্ডা ধারনকারী নবী রাসূলগণের বিরুদ্ধাচারনের শাস্তি স্বরুপ যুগে যুগে বিভিন্ন সম্প্রদায়কে করুন পরিনতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। আল্লাহ্ পাক কুর'আনের অসংখ্য স্থানে পরবর্তী প্রজন্মকে শিক্ষা গ্রহণের নিমিত্তে সভ্যতার ঐ সকল ধ্বংশস্তুপ পরিভ্রমণের জন্য তাগিদ দিয়েছেন।  আল্লাহ্‌ পাক বলেনঃ
وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ إِلَّا رِجَالًا نُّوحِي إِلَيْهِم مِّنْ أَهْلِ الْقُرَىٰ أَفَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَيَنظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ
অর্থঃ আপনার পূর্বে আমি যতজনকে রসূল করে পাঠিয়েছি, তারা সবাই পুরুষই ছিল জনপদবাসীদের মধ্য থেকে। আমি তাঁদের কাছে ওহী প্রেরণ করতাম। তারা কি দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করে না, যাতে দেখে নিত কিরূপ পরিণতি হয়েছে তাদের যারা পূর্বে ছিল ? (সূরা ইউসুফঃ১০৯)
আল্লাহ্‌ পাক আরোও ইরশাদ করেনঃ
أَوَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَيَنظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ وَكَانُوا أَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةً
অর্থঃ তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না? করলে দেখত তাদের পূর্ববর্তীদের কি পরিণাম হয়েছে। অথচ তারা তাদের অপেক্ষা অধিকতর শক্তিশালী ছিল। (সূরা ফাতিরঃ ৪৪)
আল্লাহ্‌ পাক ইরশাদ করেনঃ
ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُم بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِن قَبْلُ كَانَ أَكْثَرُهُم مُّشْرِكِينَ
অর্থঃ স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে। বলুন, তোমরা পৃথিবীতে পরিভ্রমণ কর এবং দেখ তোমাদের পুর্ববর্তীদের পরিণাম কি হয়েছে। তাদের অধিকাংশই ছিল মুশরিক। (সূরা রুমঃ ৪১-৪২)
কুর'আনের ভাষ্যনুযায়ী বিশ্বে এমন কোন সম্প্রদায় বাদ নেই যাদের পথ-নির্দেশের জন্য আল্লাহ্‌ রাসূল প্রেরণ করেননি। এদের মধ্যে কারো ভাগ্যে হেদায়েত জুটেছে আর কারো কপালে তিলক পড়ে গেছে পথ ভ্রষ্টতার, ফলশ্রুতিতে তারা নিপতিত হয়েছে ভয়ানক পরিণামের গহ্বরে। আল্লাহ্‌ পাক ইরশাদ করেনঃ
وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولًا أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ فَمِنْهُم مَّنْ هَدَى اللَّهُ وَمِنْهُم مَّنْ حَقَّتْ عَلَيْهِ الضَّلَالَةُ فَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ
অর্থঃ আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রাসূল প্রেরণ করেছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর এবাদত কর এবং তাগুত থেকে নিরাপদ থাক। অতঃপর তাদের মধ্যে কিছু সংখ্যককে আল্লাহ হেদায়েত করেছেন এবং কিছু সংখ্যকের জন্যে বিপথগামিতা অবধারিত হয়ে গেল। সুতরাং তোমরা পৃথিবীতে ভ্রমণ কর এবং দেখ মিথ্যারোপকারীদের কিরূপ পরিণতি হয়েছে। (সূরা নাহলঃ ৩৬)

খোদাদ্রোহী সভ্য! জাতিগুলো উন্নয়ন ও শক্তির এমন উচ্চ শিখরে নোঙর ফেলেছিল যে পর্যন্ত পৃথিবীর অনেক জাতি পৌঁছতে সক্ষম হয়নি। কিন্তু অন্যায়, আল্লাহ্‌র নির্দেশনের অস্বীকৃতি এবং দাওয়াতি আন্দোলনের প্রতি বিদ্রূপ তাদেরকে দুনিয়াতেই ভয়ানক নিয়তির দিকে নিয়ে যায়। সভ্যতার উৎকর্ষ পরিণত হয় ধ্বংশাত্নক পরিনামের শিক্ষনীয় পাঠশালায়। আল্লাহ্‌ পাক বলেনঃ
أَوَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَيَنظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ كَانُوا أَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةً وَأَثَارُوا الْأَرْضَ وَعَمَرُوهَا أَكْثَرَ مِمَّا عَمَرُوهَا وَجَاءَتْهُمْ رُسُلُهُم بِالْبَيِّنَاتِ فَمَا كَانَ اللَّهُ لِيَظْلِمَهُمْ وَلَٰكِن كَانُوا أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ثُمَّ كَانَ عَاقِبَةَ الَّذِينَ أَسَاءُوا السُّوأَىٰ أَن كَذَّبُوا بِآيَاتِ اللَّهِ وَكَانُوا بِهَا يَسْتَهْزِئُونَ
অর্থঃ তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না অতঃপর দেখে না যে; তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কি কি হয়েছে? তারা তাদের চাইতে শক্তিশালী ছিল, তারা যমীন চাষ করত এবং তাদের চাইতে বেশী আবাদ করত। তাদের কাছে তাদের রসূলগণ সুস্পষ্ট নির্দেশ নিয়ে এসেছিল। বস্তুতঃ আল্লাহ তাদের প্রতি জুলুমকারী ছিলেন না। কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল। অতঃপর যারা মন্দ কর্ম করত, তাদের পরিণাম হয়েছে মন্দ। কারণ, তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলত এবং সেগুলো নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত। (সূরা রুমঃ ৯-১০)
আরোও ইরশাদ হচ্ছেঃ
أَفَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَيَنظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ كَانُوا أَكْثَرَ مِنْهُمْ وَأَشَدَّ قُوَّةً وَآثَارًا فِي الْأَرْضِ فَمَا أَغْنَىٰ عَنْهُم مَّا كَانُوا يَكْسِبُونَ
অর্থঃ তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করেনি? করলে দেখত, তাদের পূর্ববর্তীদের কি পরিণাম হয়েছে। তারা তাদের চেয়ে সংখ্যায় বেশী এবং শক্তি ও কীর্তিতে অধিক প্রবল ছিল, অতঃপর তাদের কর্ম তাদেরকে কোন উপকার দেয়নি। (সুরা মু'মিনঃ ৮২)

No comments

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ

Powered by Blogger.