মাদরাসায় হামলা এবং আমাদের নীরবতা
হাবীব আনওয়ার
কিছুদিন পর পরই দেশের কোন না কোন মাদরাসায় হামলা হচ্ছে! আহত নিহত হচ্ছেন, কওমী ছাত্র-শিক্ষকরা।তারপর আমরা দু'একটি মিছিল আর মানববন্ধনে মঞ্চ কাঁপানো বক্তৃতা দিয়ে মিস্টি খাওয়ার সুন্নাত পালন করতে চলে যাই।আর কোন খবর নেই না।দীর্ঘ মেয়াদী কোন পরিকল্পনাও নেই আমাদের।কিছুদিন পরে যখন আবার অঘটন ঘটে তখন আবার কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন করি।এভাবেই আমরা আমাদের দুর্বলতা তাদের সামনে তুলে ধরি।আর তার সেই পয়েন্টগুলো ধরে আমাদের উপর বারবার হামলা করার দুঃসাহস করে।আমাদের মিছিল-মিটিং দেখে তারা ভয় পাবার পরিবর্তে আড়ালে মুচকি হাসে! কিন্তু এভাবে আর কত দিন! আর কত নীরব থাকতে হবে।আর কত রক্ত ঝরাতে হবে?
নানুপুরের বেলাল সাহেবের উপর যখন মাজার পুজারীরা হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করে দিয়েছিল, তখন আমরা নীরব ভুমিকা পালন করেছি! বিবাড়িয়ায় মাদরাসা ছাত্রকে নির্মম ভাবে হত্যা কর হলো, আমরা ক'দিন মিছিল -মিটিং আর লোক দেখানো আশ্বাস বাণী শুনে ঘরে ফিরে গিয়েছি।দোষীদের বিচার হয়েছে কিনা আজ অবধি কেউ জানে না।এমন কি জানার প্রয়োজনও বোধ করেনি কেউ! খুব নিকট অতিতে সিলেটের মুজাম্মিল ভাইকে নির্মম ভাবে শহীদ করা হলো; আমরা সেই মিছিল আর মঞ্চ কাঁপানো ভাষণ ছাড়া আর কী করতে পারলাম?! কতজন মুজাম্মিলের লাশ ছুয়ে শপথ নিল। কিন্ত আজ অবধি তার কোন বিচার হলো না!
সর্বশেষ গতকাল দেশের প্রাচীন বিদ্যাপীঠ 'বড় কাটারা মাদরাসায়' চিহ্নিত সান্ত্রাসীরা হামলা চালালো! মাদরাসার পরিচালক মাওলানা সাইফুল ইসলাম সাহেবকে নামাযরত অবস্থায় আহত করলো! অথচ আমরা বরাবরের ন্যায় এবারো নীরব!
আমরা জানি যে, হেফাজতে ইসলামের কাজ হলো, যখন কোন ধর্মীয় বিষয়ের উপর আঘাত আসবে তখন তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে।তাহলে এখন কেন নীরবতা পালন করা হচ্ছে!? নাকি মাদরাসা ধর্মীয় বিষয়ের বাহিরে?!
আমাদের দেশে নেতার কোন অভাব নেই! নেই কোন... বাহিনীরও। কিন্তু তারা আজ কোথায়? প্রয়োজনে কাজে না আসলে পাড়ায়-মহল্লায়... বাহিনীর কমিটি করে লাভটা কী?
কওমী ছাত্র-শিক্ষকদের ব্যবহার করে রাজনীতি চর্চা করে এমন ইসলামী দল আছে ডজন খানিকেরও উপরে! অথচ, আজ মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের উপর হামলা হলো কিন্তু কোন বিবৃতি পর্যন্ত দেওয়ার গরজ কারো হলো না!
প্রিয় কওমী তালবে ইলম বন্ধুরা! এভাবে নীরবতা আর কতদিন! সময় এখন নিজেদের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার।প্রয়োজন কওমী মাদরাসা রক্ষার জন্য কওমী ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম। সকল বাতিলের রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে চলার মত সাহস ও হিম্মত।
ইতিহাস সাক্ষী, পৃথিবীতে যত বিজয় অর্জিত হয়েছে, তার সবগুলোর পিছনে বড় ভূমিকা রেখেছে ছাত্র সমাজ!
তাই আসুন! নিজেদের অধিকার নিজেরাই আদায় করে নিই।আমাদের পাঠশালা গুলোকে আমরাই রক্ষা করি! অন্যের আশায় অপেক্ষা না করে।
লেখক:শিক্ষার্থী,মেখল মাদরাসা,হাটহাজারী,চট্টগ্রাম।



No comments
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ