কুরআনের শব্দে শব্দে জীবনের অর্থ।
শব্দ:العاقبة - ২য় পর্ব
শায়েখ হারুন ইযহার
দা'ওয়াতি আন্দোলনের পরিণাম
পার্থিব বিজয়ের মাধ্যমে:
তাওহীদ প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে দা'ওয়াতি সংগ্রামের প্রতিপক্ষ কুফরি শক্তির পরিণামের কথা যেমন কুরআনে বারবার বিবৃত হয়েছে, তার পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য আশার বাণী নিয়েও উল্লেখিত হয়েছে অনেকগুলো আয়াত। সেখানে আলোচিত হয়েছে তাদের কল্যাণজনক পরিণামের কথা। মু'মেনদের জন্য এ পরিণামের কথা আমরা কুরআনে দু'রকমভাবে লক্ষ করি। এক প্রকার পরিণাম হলো যা পার্থিব বিজয়ের মাধ্যমে অর্জিত হবে। যেমন আল্লাহ্ পাক মুসা (আ.) কর্তৃক তার জাতিকে উদ্দেশ্য করে প্রদত্ত ভাষণটি এভাবে উল্লেখ করেনঃ
قَالَ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِ اسْتَعِينُوا بِاللَّهِ وَاصْبِرُوا إِنَّ الْأَرْضَ لِلَّهِ يُورِثُهَا مَن يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ
অর্থঃ মুসা (আ.) বললেন তার কওমকে, সাহায্য প্রার্থনা কর আল্লাহর নিকট এবং ধৈর্য্য ধারণ কর। নিশ্চয়ই এ পৃথিবী আল্লাহর। তিনি নিজের বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেন এবং শেষ কল্যাণ মুত্তাকীদের জন্যই নির্ধারিত রয়েছে।(সুরা আ'রাফঃ ১২৮)
ইসলামের দা'ওয়াতি আন্দোলনের গতি প্রকৃতি হলো একটি পর্যায়ক্রমিক ব্যাপার। এর প্রথম স্তর হলো আল্লাহর সার্বভৌমত্বের বাণী প্রচার এবং বিরুদ্ধবাদী শক্তির পক্ষ থেকে পরিচালিত অনাচার নিরবতার মাধ্যমে সহ্য করা। দ্বিতীয় পর্যায়টি হলো পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার। যার মাধ্যমে সূচনা হয় হক্ব-বাতিলের চূড়ান্ত সংঘাত এবং যার মাধ্যমে রচিত হয় জয়-পরাজয়ের মেরুকরণ। স্বভাবত অধিকাংশ সময় যা দৃশ্যমান, তা হলো রক্তস্নাত পথে, বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে ইসলামী আন্দোলন তার মূল লক্ষে পৌঁছে যায়। এ বিজয় কোন গোষ্ঠিগত চরিত্র ধারণ করেনা বরং তা আল্লাহ্র সার্বভৌমত্ব ও সামাজিক ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মহান নৈতিকতার এক প্রাতিষ্ঠানিক বিজয়। এ চূড়ান্ত পার্থিব সফলতাকে কুরআন "প্রত্যেক কর্মের পরিণাম আল্লাহ্র এখতিয়ারভুক্ত" বলে ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। আমাদের উপরের বক্তব্যের সমর্থনে কুরআনের পূর্ণ বিবরণটি তুলে ধরছিঃ
أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ ※ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِن دِيَارِهِم بِغَيْرِ حَقٍّ إِلَّا أَن يَقُولُوا رَبُّنَا اللَّهُ وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍ لَّهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَبِيَعٌ وَصَلَوَاتٌ وَمَسَاجِدُ يُذْكَرُ فِيهَا اسْمُ اللَّهِ كَثِيرًا وَلَيَنصُرَنَّ اللَّهُ مَن يَنصُرُهُ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ ※ الَّذِينَ إِن مَّكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ
অর্থঃ যুদ্ধে অনুমতি দেয়া হল তাদেরকে যাদের সাথে কাফেররা যুদ্ধ করে; কারণ তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে। আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে অবশ্যই সক্ষম। যাদেরকে তাদের ঘর-বাড়ী থেকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে শুধু এই অপরাধে যে, তারা বলে আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ। আল্লাহ যদি মানবজাতির একদলকে অপর দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে (খ্রিষ্টানদের) নির্জন গির্জা, এবাদত খানা, (ইহুদীদের) উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ বিধ্বস্ত হয়ে যেত, যেগুলাতে আল্লাহর নাম অধিক স্মরণ করা হয়। আল্লাহ নিশ্চয়ই তাদেরকে সাহায্য করবেন, যারা আল্লাহর সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, শক্তিধর। তারা এমন লোক যাদেরকে আমি পৃথিবীতে শক্তি-সামর্থ্য দান করলে তারা নামায কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করবে। প্রত্যেক কর্মের পরিণাম আল্লাহর এখতিয়ারভুক্ত। (সুরা হজ্বঃ ৩৯-৪১)
দাওয়াতি আন্দোলন এবং
তার বিরোধিতার পরিণাম
পরকালীন সাফল্য ও শাস্তির মাধ্যমে:
আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেনঃ
تِلْكَ الدَّارُ الْآخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِينَ لَا يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ وَلَا فَسَادًا وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ
অর্থঃ এই পরকাল আমি তাদের জন্যে নির্ধারিত করি, যারা দুনিয়ার বুকে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে ও অনর্থ সৃষ্টি করতে চায় না। খোদাভীরুদের জন্যে শুভ পরিণাম। (সূরা কাসাসঃ ৮৩)
পবিত্র কুরআনে পরকালের পরিণাম বুঝানোর জন্য عقبي শব্দটি ও ব্যবহার করা হয়েছে।
যেমন আল্লাহ্ পাক জ্ঞানী ব্যক্তিদের নানা গুণাবলির বিবরণ তুলে ধরে তাদের পরিণাম সম্পর্কে বলেনঃ
وَالَّذِينَ صَبَرُوا ابْتِغَاءَ وَجْهِ رَبِّهِمْ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَأَنفَقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةً وَيَدْرَءُونَ بِالْحَسَنَةِ السَّيِّئَةَ أُولَٰئِكَ لَهُمْ عُقْبَى الدَّارِ ※ جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا وَمَن صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَالْمَلَائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِم مِّن كُلِّ بَابٍ ※ جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا وَمَن صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَالْمَلَائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِم مِّن كُلِّ بَابٍ
অর্থঃ এবং যারা স্বীয় পালনকর্তার সন্তুষ্টির জন্যে সবর করে, নামায প্রতিষ্টা করে আর আমি তাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্য ব্যয় করে এবং যারা মন্দের বিপরীতে ভাল করে, তাদের জন্যে রয়েছে পরকালের গৃহ। তা হচ্ছে বসবাসের বাগান। তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের সৎকর্মশীল বাপ-দাদা, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানেরা। ফেরেশতারা তাদের কাছে আসবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে। তা হচ্ছে বসবাসের বাগান। তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের সৎকর্মশীল বাপ-দাদা, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানেরা। ফেরেশতারা তাদের কাছে আসবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে। (সূরা রাদঃ২২-২৪)
উক্ত আয়াতে عقبي শব্দটি মুসলমানদের আখেরাতের সু-পরিণামের অর্থে ব্যবহার হয়েছে। অন্য আয়াতে মুসলমানদের পরিণতির পাশাপাশি কাফেরদের পরকালীন অর্থে এ عقبي শব্দটি ব্যবহার হয়েছে।
مَّثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ أُكُلُهَا دَائِمٌ وَظِلُّهَا تِلْكَ عُقْبَى الَّذِينَ اتَّقَوا وَّعُقْبَى الْكَافِرِينَ الن مَّثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ أُكُلُهَا دَائِمٌ وَظِلُّهَا تِلْكَ عُقْبَى الَّذِينَ اتَّقَوا وَّعُقْبَى الْكَافِرِينَ النَّارُ
অর্থঃ পরহেযগারদের জন্যে প্রতিশ্রুত জান্নাতের অবস্থা এই যে, তার নিম্নে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হয়। তার ফলসমূহ চিরস্থায়ী এবং ছায়াও। এটা তাদের প্রতিদান, যারা সাবধান হয়েছে এবং কাফেরদের প্রতিফল অগ্নি। (সূরা রাদঃ ৩৫)
আল্লাহ্ পাক আরোও ইরশাদ করেনঃ
وَسَيَعْلَمُ الْكُفَّارُ لِمَنْ عُقْبَى الدَّارِ
অর্থঃ কাফেররা জেনে নেবে যে, পর জীবনের আবাসস্থল কাদের জন্য রয়েছে। (সূরা রাদঃ ৪২)
চূড়ান্ত
ঘোষণাঃ
قُلْ يَا قَوْمِ اعْمَلُوا عَلَىٰ مَكَانَتِكُمْ إِنِّي عَامِلٌ فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ مَن تَكُونُ لَهُ عَاقِبَةُ الدَّارِ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الظَّالِمُونَ
অর্থঃ আপনি বলে দিন, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা স্বস্থানে কাজ করে যাও, আমিও কাজ করি। অচিরেই জানতে পারবে যে, পরিণাম গৃহ কে লাভ করে। নিশ্চয় জালেমরা সুফলপ্রাপ্ত হবে না। (সূরা আন'আমঃ ১৩৫)
হাতল মজবুত, পরিণাম ভাল
وَمَن يُسْلِمْ وَجْهَهُ إِلَى اللَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَىٰ وَإِلَى اللَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ
অর্থঃ যে ব্যক্তি সৎকর্মপরায়ণ হয়ে স্বীয় মুখমন্ডলকে আল্লাহ অভিমুখী করে, সে এক মজবুত হাতল ধারণ করে, সকল কর্মের পরিণাম আল্লাহর দিকে। (সূরা লোকমানঃ ২২)
শায়েখ হারুন ইযহার
দা'ওয়াতি আন্দোলনের পরিণাম
পার্থিব বিজয়ের মাধ্যমে:
তাওহীদ প্রতিষ্ঠার প্রয়াসে দা'ওয়াতি সংগ্রামের প্রতিপক্ষ কুফরি শক্তির পরিণামের কথা যেমন কুরআনে বারবার বিবৃত হয়েছে, তার পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য আশার বাণী নিয়েও উল্লেখিত হয়েছে অনেকগুলো আয়াত। সেখানে আলোচিত হয়েছে তাদের কল্যাণজনক পরিণামের কথা। মু'মেনদের জন্য এ পরিণামের কথা আমরা কুরআনে দু'রকমভাবে লক্ষ করি। এক প্রকার পরিণাম হলো যা পার্থিব বিজয়ের মাধ্যমে অর্জিত হবে। যেমন আল্লাহ্ পাক মুসা (আ.) কর্তৃক তার জাতিকে উদ্দেশ্য করে প্রদত্ত ভাষণটি এভাবে উল্লেখ করেনঃ
قَالَ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِ اسْتَعِينُوا بِاللَّهِ وَاصْبِرُوا إِنَّ الْأَرْضَ لِلَّهِ يُورِثُهَا مَن يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ
অর্থঃ মুসা (আ.) বললেন তার কওমকে, সাহায্য প্রার্থনা কর আল্লাহর নিকট এবং ধৈর্য্য ধারণ কর। নিশ্চয়ই এ পৃথিবী আল্লাহর। তিনি নিজের বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা এর উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেন এবং শেষ কল্যাণ মুত্তাকীদের জন্যই নির্ধারিত রয়েছে।(সুরা আ'রাফঃ ১২৮)
ইসলামের দা'ওয়াতি আন্দোলনের গতি প্রকৃতি হলো একটি পর্যায়ক্রমিক ব্যাপার। এর প্রথম স্তর হলো আল্লাহর সার্বভৌমত্বের বাণী প্রচার এবং বিরুদ্ধবাদী শক্তির পক্ষ থেকে পরিচালিত অনাচার নিরবতার মাধ্যমে সহ্য করা। দ্বিতীয় পর্যায়টি হলো পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার। যার মাধ্যমে সূচনা হয় হক্ব-বাতিলের চূড়ান্ত সংঘাত এবং যার মাধ্যমে রচিত হয় জয়-পরাজয়ের মেরুকরণ। স্বভাবত অধিকাংশ সময় যা দৃশ্যমান, তা হলো রক্তস্নাত পথে, বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে ইসলামী আন্দোলন তার মূল লক্ষে পৌঁছে যায়। এ বিজয় কোন গোষ্ঠিগত চরিত্র ধারণ করেনা বরং তা আল্লাহ্র সার্বভৌমত্ব ও সামাজিক ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মহান নৈতিকতার এক প্রাতিষ্ঠানিক বিজয়। এ চূড়ান্ত পার্থিব সফলতাকে কুরআন "প্রত্যেক কর্মের পরিণাম আল্লাহ্র এখতিয়ারভুক্ত" বলে ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। আমাদের উপরের বক্তব্যের সমর্থনে কুরআনের পূর্ণ বিবরণটি তুলে ধরছিঃ
أُذِنَ لِلَّذِينَ يُقَاتَلُونَ بِأَنَّهُمْ ظُلِمُوا وَإِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ نَصْرِهِمْ لَقَدِيرٌ ※ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِن دِيَارِهِم بِغَيْرِ حَقٍّ إِلَّا أَن يَقُولُوا رَبُّنَا اللَّهُ وَلَوْلَا دَفْعُ اللَّهِ النَّاسَ بَعْضَهُم بِبَعْضٍ لَّهُدِّمَتْ صَوَامِعُ وَبِيَعٌ وَصَلَوَاتٌ وَمَسَاجِدُ يُذْكَرُ فِيهَا اسْمُ اللَّهِ كَثِيرًا وَلَيَنصُرَنَّ اللَّهُ مَن يَنصُرُهُ إِنَّ اللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ ※ الَّذِينَ إِن مَّكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ أَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ وَأَمَرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَنَهَوْا عَنِ الْمُنكَرِ وَلِلَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ
অর্থঃ যুদ্ধে অনুমতি দেয়া হল তাদেরকে যাদের সাথে কাফেররা যুদ্ধ করে; কারণ তাদের প্রতি অত্যাচার করা হয়েছে। আল্লাহ তাদেরকে সাহায্য করতে অবশ্যই সক্ষম। যাদেরকে তাদের ঘর-বাড়ী থেকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে শুধু এই অপরাধে যে, তারা বলে আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ। আল্লাহ যদি মানবজাতির একদলকে অপর দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে (খ্রিষ্টানদের) নির্জন গির্জা, এবাদত খানা, (ইহুদীদের) উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ বিধ্বস্ত হয়ে যেত, যেগুলাতে আল্লাহর নাম অধিক স্মরণ করা হয়। আল্লাহ নিশ্চয়ই তাদেরকে সাহায্য করবেন, যারা আল্লাহর সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, শক্তিধর। তারা এমন লোক যাদেরকে আমি পৃথিবীতে শক্তি-সামর্থ্য দান করলে তারা নামায কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং সৎকাজে আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করবে। প্রত্যেক কর্মের পরিণাম আল্লাহর এখতিয়ারভুক্ত। (সুরা হজ্বঃ ৩৯-৪১)
দাওয়াতি আন্দোলন এবং
তার বিরোধিতার পরিণাম
পরকালীন সাফল্য ও শাস্তির মাধ্যমে:
আল্লাহ্ পাক ইরশাদ করেনঃ
تِلْكَ الدَّارُ الْآخِرَةُ نَجْعَلُهَا لِلَّذِينَ لَا يُرِيدُونَ عُلُوًّا فِي الْأَرْضِ وَلَا فَسَادًا وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ
অর্থঃ এই পরকাল আমি তাদের জন্যে নির্ধারিত করি, যারা দুনিয়ার বুকে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে ও অনর্থ সৃষ্টি করতে চায় না। খোদাভীরুদের জন্যে শুভ পরিণাম। (সূরা কাসাসঃ ৮৩)
পবিত্র কুরআনে পরকালের পরিণাম বুঝানোর জন্য عقبي শব্দটি ও ব্যবহার করা হয়েছে।
যেমন আল্লাহ্ পাক জ্ঞানী ব্যক্তিদের নানা গুণাবলির বিবরণ তুলে ধরে তাদের পরিণাম সম্পর্কে বলেনঃ
وَالَّذِينَ صَبَرُوا ابْتِغَاءَ وَجْهِ رَبِّهِمْ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَأَنفَقُوا مِمَّا رَزَقْنَاهُمْ سِرًّا وَعَلَانِيَةً وَيَدْرَءُونَ بِالْحَسَنَةِ السَّيِّئَةَ أُولَٰئِكَ لَهُمْ عُقْبَى الدَّارِ ※ جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا وَمَن صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَالْمَلَائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِم مِّن كُلِّ بَابٍ ※ جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا وَمَن صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَالْمَلَائِكَةُ يَدْخُلُونَ عَلَيْهِم مِّن كُلِّ بَابٍ
অর্থঃ এবং যারা স্বীয় পালনকর্তার সন্তুষ্টির জন্যে সবর করে, নামায প্রতিষ্টা করে আর আমি তাদেরকে যা দিয়েছি, তা থেকে গোপনে ও প্রকাশ্য ব্যয় করে এবং যারা মন্দের বিপরীতে ভাল করে, তাদের জন্যে রয়েছে পরকালের গৃহ। তা হচ্ছে বসবাসের বাগান। তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের সৎকর্মশীল বাপ-দাদা, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানেরা। ফেরেশতারা তাদের কাছে আসবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে। তা হচ্ছে বসবাসের বাগান। তাতে তারা প্রবেশ করবে এবং তাদের সৎকর্মশীল বাপ-দাদা, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানেরা। ফেরেশতারা তাদের কাছে আসবে প্রত্যেক দরজা দিয়ে। (সূরা রাদঃ২২-২৪)
উক্ত আয়াতে عقبي শব্দটি মুসলমানদের আখেরাতের সু-পরিণামের অর্থে ব্যবহার হয়েছে। অন্য আয়াতে মুসলমানদের পরিণতির পাশাপাশি কাফেরদের পরকালীন অর্থে এ عقبي শব্দটি ব্যবহার হয়েছে।
مَّثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ أُكُلُهَا دَائِمٌ وَظِلُّهَا تِلْكَ عُقْبَى الَّذِينَ اتَّقَوا وَّعُقْبَى الْكَافِرِينَ الن مَّثَلُ الْجَنَّةِ الَّتِي وُعِدَ الْمُتَّقُونَ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ أُكُلُهَا دَائِمٌ وَظِلُّهَا تِلْكَ عُقْبَى الَّذِينَ اتَّقَوا وَّعُقْبَى الْكَافِرِينَ النَّارُ
অর্থঃ পরহেযগারদের জন্যে প্রতিশ্রুত জান্নাতের অবস্থা এই যে, তার নিম্নে নির্ঝরিণীসমূহ প্রবাহিত হয়। তার ফলসমূহ চিরস্থায়ী এবং ছায়াও। এটা তাদের প্রতিদান, যারা সাবধান হয়েছে এবং কাফেরদের প্রতিফল অগ্নি। (সূরা রাদঃ ৩৫)
আল্লাহ্ পাক আরোও ইরশাদ করেনঃ
وَسَيَعْلَمُ الْكُفَّارُ لِمَنْ عُقْبَى الدَّارِ
অর্থঃ কাফেররা জেনে নেবে যে, পর জীবনের আবাসস্থল কাদের জন্য রয়েছে। (সূরা রাদঃ ৪২)
চূড়ান্ত
ঘোষণাঃ
قُلْ يَا قَوْمِ اعْمَلُوا عَلَىٰ مَكَانَتِكُمْ إِنِّي عَامِلٌ فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ مَن تَكُونُ لَهُ عَاقِبَةُ الدَّارِ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الظَّالِمُونَ
অর্থঃ আপনি বলে দিন, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা স্বস্থানে কাজ করে যাও, আমিও কাজ করি। অচিরেই জানতে পারবে যে, পরিণাম গৃহ কে লাভ করে। নিশ্চয় জালেমরা সুফলপ্রাপ্ত হবে না। (সূরা আন'আমঃ ১৩৫)
হাতল মজবুত, পরিণাম ভাল
وَمَن يُسْلِمْ وَجْهَهُ إِلَى اللَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَىٰ وَإِلَى اللَّهِ عَاقِبَةُ الْأُمُورِ
অর্থঃ যে ব্যক্তি সৎকর্মপরায়ণ হয়ে স্বীয় মুখমন্ডলকে আল্লাহ অভিমুখী করে, সে এক মজবুত হাতল ধারণ করে, সকল কর্মের পরিণাম আল্লাহর দিকে। (সূরা লোকমানঃ ২২)



No comments
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ