শবে কদর কি ও কেন?

                                                                        মাহমুদুল হাসান সাতক্ষীরা

হিজরী বার মাসের মধ্যে রমজান একটি গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য মাস এই মাসে আল্লাহ তা'আলা লাওহে মাহফুজ থেকে নিম্ন আকাশের বাইতুল ইযযাত নামক স্থানে পূর্ণ কুরআনে কারীম নাজিল করেন।রমজান মাস, এমাসে মানুষের দিশারী সৎপথের সুষ্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থকারী রূপে কুরআন অবতীর্ণ  হয়েছে।(সুরাহ বাকারাহ,১৮০)
রোযার মূল শব্দ আরবীতে সওম যা বহু বচনে সিয়াম। এ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো  কোন কিছু থেকে বিরত থাকা। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় এর অর্থ হচ্ছে সুবহে সাদিক থেকে রোযার নিয়তে সুর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার এবং যৌন সম্ভোগ থেকে বিরত থাকা।  রোযা আমাদের উপর নতুন কোন কিছু নয়, বরং পূর্ববর্তী উম্মতগণের উপরও কোন না কোন ভাবে তা ফরজ ছিল।যেমন পবিত্র কুরআন মাজীদে ইরশাদ রয়েছে  হে ঈমানদারগণ তোমাদের উপর রোযা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর যেন তোমরা পরহেজগারী অর্জন করতে পার।(সুরাহ বাকারহ ১৮৩)
এ আয়াতে ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে হযরত হাসান বসরী রাহ.হযরত আলী রা. এর একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেছেন, মানব জাতির ধর্মীয় ইতিহাসে এরূপ প্রমাণের অভাব নেই যে,প্রত্যেক যুগের সকল আসমানী ধর্মেই রোযা ফরজ ছিল। সুতরং এ ধারণা কর না যে,রোযা জনিত কষ্ট কেবল আমাদেরই উপর ই চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।বরং  এ জন্য দেওয়া হয়েছে, যেন তোমরা পর্যায়ক্রমে মুত্তাকী হয়ে যেতে পারে কারণ রোযার দ্বারা মানুষের প্রাকৃতি প্রিয় ও আকর্ষনীয় বস্তু থেকে বিরত থাকার চর্চা বা অনুশীলন হয়। যারদ্বারা তাতে অন্যান্য নিষিদ্ধ বিষয় গুলো থেকে বিরত থাকার শক্তি অর্জন হয়।তাছাড়া অধিকাংশ গুনাহ কামভাব এবং ক্রোধ থেকেই হয়ে থাকে।

রমযানুল মোবারকের রাতসমূহের অন্যতম একটি রাতকে শবে কদর বলা হয়,শবে কদর অত্যন্ত পূণ্যময় রজনী। যা নানাবিধ বরকত ও কল্যণের রাত।কুরআন শরীফে এ রাত এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলা হয়েছে।এক হাজার বছরে  তিরাশি বছর চার মাস হয়ে থাকে।সৌভাগ্য ঐ ব্যক্তির এরাতে ইবাদত করা যার ভাগ্যে জুটবে।কেননা,যে ব্যক্তি এই একটি রাত ইবাদতে কাটিয়ে দিবে সে যেন তিরাশি বছর চার মাসের চেয়েও বেশী সময় ইবাদতে কাটিয়ে দিল আর এ অধিক সময়েরও কোন সীমা জনা যায়নি যে তা এক হাজার মাসের চেয়ে কত মাস উত্তম(ঐ যুগে আরবদের নিকট এক হাজার চেয়ে বেশী গণনার সংখ্যা  ছিল না)
মহান আল্লাহ  পাকের এটি একটি অতিশয় বিরাট দান যে,তিনি গুরুত্ব প্রদানকারীদেরকে শবে কদরের মত একটি সীমাহীন নিয়ামত প্রদান করেছেন।দুররে মনছুরের মধ্যে হযরত আনাস রা. এর সূত্রে মহানবী সা.এর এ পবিত্র বাণী বর্ণিত হয়েছে যে আল্লাহ তায়ালা আমার উম্মতকে
 শবে কদর দান করেছেন,যা পূর্ববর্তী উম্মতগণ পায় নাই।
কতিপয় হাদীসে বর্ণিত আছে যে তা মহানবী সা পূর্ববর্তী উম্মতদের আয়ুূষ্কাল সম্বন্ধে অবহিত হলেন যে তা অনেক দীর্ঘ কিন্তু তদীয় উম্মতের জীবনকাল হচ্ছে অত্যন্ত কম। যদি এরা পুণ্য কাজে ওদের সমমানের হতে ইচ্ছা করে তাহলে তা সম্ভাব নয় এতে আল্লাহর এ মহান নবীর অত্যন্ত দুঃখ হল এরই ক্ষতি পূরণার্থে এরাত দান করা হয় যে যদি কোন সৌভাগ্যবান ব্যক্তির ভাগ্যে এরূপ মাত্র দশটি রাতও জুটে যায় এবং এ রাতসমূহ ইবাদত বন্দেগীতে কাটিয়ে দেয় তাহলে যেন তেরাশি হাজার বছর চার মাসের চেয়েও বেশী সময় পরিপূর্ণভাবে ইবাদতে কাটিয়ে দিল।
মা জননী হযরত আয়েশা রা.হতে বর্ণিত,তিনি বলেন হযরত রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন শবে কদরকে রমজান মাসের শেষ দশ রাতের বজোড় রাতসমূহে অনুসন্ধান কর(বোখারী)
নবী করীম সা. ইরশাদ করেন যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ছাওয়াবের নিয়ত এ রাত্রে ইবাদত করবে তার অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। (বাইহাকী)।
এ জন্য যতদূর সম্ভাব উক্ত রাতটি জাগ্রত থেকে ইবাদত বন্দেগী, তাসবীহ, তাহলীল, কুরআন তিলাওয়াত, দরূদ মাধ্যমে কাটানো উচিত।

No comments

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ

Powered by Blogger.