কেন বাড়ছে অপরাধ?

কেন বাড়ছে অপরাধ?

হাবীব আনওয়ার

আমরা মানুষ।আশরাফুল মাখলুকাত।সৃষ্টির সেরা জীব।অসংখ্য অগণিত নিয়ামতে ভরপুর আমাদের চারপাশ।সবুজ-শ্যামল ফসল, গোলা ভরা  ধান।গোয়াল ভর্তি গরু। উপরে সুবিশাল আসমান।নিচে বিস্তৃত ময়দান।গাছে ফুল-ফল। নদী ভরা জল।ইত্যাদি।
সব কিছু আল্লাহ আমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, আর আমাদের সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদতের জন্য!আর সেই কথাই বিবৃত হয়েছে পবিত্র কুরআনে "আমি মানুষ এবং জ্বীন জাতিকে সৃষ্টি করেছি আমার দাসত্ব করার জন্য।"
গোলাম দুনিয়াতে মালিকের গোলামী করবে।আর মালিক তার আঁচল ভরে প্রতিদান দিবেন।গোলামের সকল অভাব দূর করে দিবেন।পাপ মোচন করবেন। আর বন্দা আল্লাহর খাছ রহমতের জলাশয়ে প্লাবিত হয়ে নিজের গুনাহগুলো ধুয়ে-মুছে পাপ পাঙ্কিলতা থেকে মুক্ত হবেন।

কিন্তু হিংসুক ইবলিস আমাদের পিছনে লেগে আছে ছায়ার মত। যার ফলে আলোকিত,স্বচ্ছ জীবনে নেমে আসে নিকষ কালো অন্ধকার।অপরাধের কারণে, ধ্রুব সাদা দিলটি হয়ে যায় কলুষিত!  তখন মানুষ আর মানুষ থাকে না।নেমে যায় পশুত্বে।নন্দিত ব্যক্তিটিও হয়ে উঠে নিন্দিত।সকলের চক্ষুশুল।কারণ, আমাদের কিছু কিছু অপরাধ মনুষ্যত্বের গণ্ডি থেকে আমাদের বের করে এনে পৌঁছে দেয় পশুত্বের কাতারে।আমাদের অপরাধ গুলো দেখে খোদ ইবলিসও লজ্জা পায়।

সারা পৃথিবী আজ যেন অপরাধের অভয়ারন্য।চারদিক শুধু অন্যায় আর অবিচার।নির্বিচারে চলছে মানুষ হত্যা।গুম-খুন,ধর্ষণ,হত্যা,চুরি ডাকাতি তথা এমন কোন অপরাধ নেই যার সাথে মানুষ জড়িত নেই।যে কাজগুলো পশু করে না, তা এখন মানুষ করে।
এই ধর্ষণের কথাই বলি, ধর্ষণ এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে।দুধের শিশু হতে যৌবনে ভাটা পরা বৃদ্ধাও আজ ধর্ষণের শিকার।১২ বছরের বালক থেকে শুরু করে সব শ্রেণী পেশার মানুষ হয়ে উঠেছে ধর্ষক! প্রেমিক প্রেমিকাকে, শিক্ষক ছাত্রীকে, এমনকি ভাই বোনকে, বাবা মেয়েকে ধর্ষণের  করার মত নিকৃষ্ট খবরও আমাদের শুনতে হয়।পত্রিকার পাতা উল্টালেই চোখে পরে ধর্ষণের মহা উৎসব! বাংলাদেশের মত একটি সভ্য দেশেও ধর্ষণের সেঞ্চুরি উপলক্ষ্যে মিষ্টি বিতরণের দৃশ্যও দেখতে হয়েছে! তো একজন মানুষ কতটুকু নিচে নামলে এমন জঘন্য নীতিবিবর্জিত কাজ করতে পারে! চরিত্র কত নিচে নেমে গেছে সেটাই চিন্তার বিষয়।

আল্লাহর রাসূল বলেছেন,
আনাস রা. থেকে বর্ণিত হুজুর ছা. ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোন মুসলমানকে কষ্ট দিল সে আমাকে কষ্ট দিল!আর যে ব্যক্তি আমাকে কষ্ট দিলে সে নিশ্চিতভাবে আল্লাকে কষ্ট দিল!
অন্য হাদীসে আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, হুজুর ছা. বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের ক্ষতি করল অথবা ধোঁকা দিল সে অভিশপ্ত! (তিরমিযী)

এছাড়াও চুরি-ডাকাতি, কিডন্যাপ(অপহরণ) -লুটপাট, চাঁদাবাজি,ইভটিজিং,মাদকসহ প্রতিনিয়ত অপরাধের তালিকা শুধু দীর্ঘায়িত হচ্ছে।অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিরামহীন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, পুলিশ-প্রশাসন,সুশীল সমাজ, মানবধিকার সংগঠনসহ সমাজের সকল সচেতন নাগরিক! গ্রহণ করা হচ্ছে বিভিন্ন কৌশল।নেওয়া হচ্ছে নানা ধরণে উদ্যোগ।করা হচ্ছে সভা সেমিনারসহ কত সচেতন সচেতনতা মূলক কর্মকাণ্ড। তারপরও প্রতিনিয়ত বেঁড়েই চলছে নিত্য নতুন অপরাধ!

কেন কমছে না অপরাধ?

এক কথায় উত্তর হলো যে, অপরাধ নির্মূলের জন্য আল্লাহর দেওয়া ফর্মূলা মানা হচ্ছে না।কুরআনে বর্ণিত বিধান কার্যকর করা হচ্ছে না।
আল্লাহ বলেছেন, তোমারা তাকওয়া অর্জন কর।অর্থাৎ আল্লাহর ভয় অন্তরে প্রবেশ কর। কারণ, যার দিলে আল্লাহর ভয় থাকবে তার পক্ষে অপরাধ করা অসম্ভব!
আল্লাহ বলেছেন, চুরি করলে হাত কেটে দাও! যিনা করলে দররা (বেত্রাঘাত)  মারো! (এই শাস্তি একমাত্র ন্যায় পরায়ণ কাজি দিতে পারবে) অথচ,আমরা টাকার(ঘুষ) বদলে আসামিদের সযত্নে ছেড়ে দিচ্ছি।

অথচ,আমরা আল্লাহর কথাকে অগ্রাহ্য করে কুফরী মতবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছি।যার ফলে চক্র হারে বেড়েই চলছে নানা ধরণের অপরাধ।তাই আসুন! কুরআনের দেখানো পথে চলি।সুন্দর ও আদর্শময় দেশ গড়ি!
মাদক,চোরাকারবারি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি মুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি!

লেখক:শিক্ষার্থী,মেখল মাদরাসা,হাটহাজারী,চট্টগ্রাম।
habibanwar199@gmail.com
www.islamialobd.com

No comments

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ

Powered by Blogger.