মাওলানা আবদুল মালেক, শতাব্দিতে একজন আসেন
মাওলানা আবদুল মালেক, শতাব্দিতে একজন আসেন৷
রেজাউল করিম আবরার
.
মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক। বাংলাদেশের ইলমের মুজাদ্দিদ। তার হাত ধরেই বাংলাদেশের আলেমরা তাহকিকের সাথে পরিচিত হয়েছেন। আবদুল মালেক সাহেব শুধু একজন বড় আলেম নন, তারমত উত্তম চরিত্রের অধিকারী মানুষ পৃথিবীতে খুবই কম। আল্লাহর নামে কসম করে বলছি, মারকাযুদ দাওয়াহতে যে দুবছর পড়েছি, দুই বছরে হুজুরকে কখনো গিবত করতে দেখিনি। সমসাময়িক কোনো আলেমের সমালোচনা করতে দেখিনি। ফরিদ সাহেব হুজুরের প্রসঙ্গ আসলেই সম্মানের সাথে তার নাম নিতেন। তার মুতালায়ার প্রশংসা করতেন। বিতর্কিত শাহবাগ আন্দোলনের সময় আমি মারকাযে ছিলাম। হুজুর কখনো এ বিষয় নিয়ে একটি কথাও বলেননি।
ইমাম মুহাম্মাদ রহ. রাতে ঘুমাতেন না। তাকে জিজ্ঞাসা করা হল আপনি রাতে কেন ঘুমান না? তিনি বললেন, উম্মাহ তাদের সকল সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব আমাদের উপর অর্পণ করে ঘুমিয়েছে। আমরা ঘুমালে তার সমস্যার সমাধান দিবে কে? আবদুল মালেক সাহেব হলেন এ পর্যায়ের। দিন-রাত ২৪ ঘন্টা তিনি কিতাব নিয়ে পড়ে থাকেন। তার কলম থেকে পুরো মুসলিম উম্মাহ উপকৃত হচ্ছে। শায়খ মুহাম্মাদ আওয়ামা, শায়খুল ইসলাম তাকি উসমানি . সাঈদ আহমদ পালনপুরির মত বিশ্ব বরেণ্য ইসলামিক স্কলাররা যাকে সমীহ করেন! সম্মান করেন।
নেজামুদ্দিনের মৌলভি সাদ হাদাহুল্লাহ আনুগত্য করা জায়েজ নেই বলে ফতোয়া প্রদান করেছেন মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক দামাত বারাকাতুহুম। কেন জায়েজ নেই? কারণ সুস্পষ্ট। সাদ সাহেবের ভ্রষ্টতার কারণে! নবিদের ব্যাপারে, সাহাবাদের ব্যাপারে, সালাফদের ব্যাপারে বেয়াদবিমূলক বক্তব্য প্রদানকারী ব্যক্তি কীভাবে আমির হতে পারে? সাদ সাহেবের কিছু বক্তব্য পড়ে দেখুন তাকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের মধ্যে গণ্য করা যায় কি না? মওদুদিকে আমরা সকলেই ভ্রষ্ট বলি। আচ্ছা, দেখুনতো সাদ সাহেবের এ বক্তব্যগুলো আর মওদুদির বক্তব্যের মাঝে কোনো পার্থক্য খুঁজে পান কি না? সাদ সাহেব বলেনÑ
>> আজান হলো ‘তাশকিল’ (প্লান-পরিকল্পনা)। নামাজ হলো ‘তারগীব’ (পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উদ্বুদ্ধকরণ)। আর নামাজের পর আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়া হলো ‘তারতীব’ (পরিকল্পনার মূল বাস্তবায়ন)।
>> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাওয়াত ইলাল্লাহর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইশার নামাজকে পর্যন্ত বিলম্ব করে পড়েছেন। অর্থাৎ নামাজের চেয়ে দাওয়াতের গুরুত্ব বেশি।
>> হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম ‘তোমার প্রভুর কাছে আমার কথা বল’ বলে গাইরুল্লাহর দিকে দৃষ্টি দেয়ার কারণে তাকে অতিরিক্ত ৭ বছর জেলখানায় থাকতে হয়েছে।
>> হজরত জাকারিয়া আলাইহিস সালাম আল্লাহকে ছেড়ে গাছের কাছে আশ্রয় চাইলেন। ফলে শাস্তি ভোগ করতে হলো।
>> মুজিজার সম্পর্ক কেবল দাওয়াতের সঙ্গে। নবুয়াতের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।
>> হজরত মুসা আলাইহিস সালাম থেকে বড় এক ভুল হয়ে গেছে এবং তিনি এক অপরাধ করে ফেলেছেন- জামাআত এবং কাওমকে ছেড়ে তিনি আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য ‘নির্জনতা’ অবলম্বন করেছেন।
>> হজরত মুসা আলাইহিস সালাম কর্তৃক হজরত হারুনন আলাইহিস সালামকে নিজের স্থলাভিষিক্ত বানানোও অনুচিৎ কাজ হয়েছে।
>> হেদায়েতের সম্পর্ক যদি আল্লাহর হাতে হতো; তাহলে তিনি নবি পাঠাতেন না।
>> কুরআন শরীফ বুঝে-শুনে তেলাওয়াত করা ওয়াজিব। তরজমা না জেনে তেলাওয়াত করলে তরকে ওয়াজিবের গোনাহ হবে।
>> আপনাদের কাছে সবচাইতে বড় গোনাহ- চুরি, যিনা। ঠিকই এটা বড় গোনাহ; তবে তার চাইতে বড় গোনাহ হলো খুরুজ না হওয়া। তাই হজরত কা’ব ইবনে মালেকের সঙ্গে ৫০ দিন পর্যন্ত কথাবার্তা বন্ধ রাখা হয়।
>> জিকিরের অর্থ আল্লাহ আল্লাহ বা অন্যান্য তাসবিহ পড়া নয়; জিকিরের আসল অর্থ আল্লাহর আলোচনা করা।
এ তালিকা আরো দীর্ঘ। দুঃখে কলিজাটা বিদির্ণ হয়ে যায়। সারা জীবন মওদুদির বিরোধিতা করলাম! মওদুদির বিরোধিতা করতে গিয়ে কতকিছু করলাম! কিন্তু আমরাই আবার সাদের মত নষ্ট ভ্রষ্ট লোকের পক্ষে ওকালতি করছি? আচ্ছা, নবিদের ব্যাপারে যে ব্যক্তি এমন বক্তব্য প্রদান করতে পারে? সে আর মওদুদির মাঝে পার্থক্য কোথায়? নামাজ নিয়ে যে এমন গর্হিত কথা বলতে পারে? তার আর বায়েজিদ খান পন্নির মাঝে পার্থক্য কোথায়? কুরআন, হাদিসের এমন মারাত্মক বিকৃতির পর যদি সাদ সাহেব গুমরাহ না হয়, তাহলে খারেজি, রাফেজি, শিয়া, মুতাজিলি, জাবরিয়্যাহ, কাদরিয়্যাহ, মুরজিয়া, জাহমিয়্যারা বাতিল কেন? আরেকটু শুনুন এবার। হজরতজি বলেন,
>> কুরআন শরিফ শিখিয়ে বেতন গ্রহণ করেন, তাদের বেতন বেশ্যার উপার্জনের চেয়েও খারাপ। যে ইমাম এবং শিক্ষক বেতন গ্রহণ করেন, বেশ্যারা তাদের আগে জান্নাতে যাবে!
>> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর কেবল তিনজ লোকের ‘বাইআত’ পূর্ণতা পেয়েছে। আর বাকি সবার বাইআত অপূর্ণ। সেই ৩ জন হলেন- শাহ ইসমাঈল শহীদ, মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস এবং মাওলানা মুহাম্মদ ইউসুফ।
কেমন মারাত্মক ভ্রষ্ট এই মৌলভি সাদ হাদাহুল্লাহ! নিজের বিবেককে প্রশ্ন করুন যে, এমন নষ্ট আলেম কি তাবলিগের আমির হওয়ার যোগ্য? কুরআন, সুন্নাহর আলোকে তার আনুগত্য করা কি জায়েজ আছে? আবদুল মালেক সাহেবতো কুরআন, সুন্নাহরই কথা বলেছেন! তিনি ভুলটা কি করলেন? সকলেই তো বাতিল ফিরকার মোকাবেলা করেন! কিন্তু আবদুল মালেক সাহেবের মত “এতেদালি” মেজাজে কয়জন করে? উম্মতের মতানৈক্য নিয়ে শেষ রাতে আমি তাকে হাউমাউ করে কাঁদতে দেখেছি! আবদুল মালেক সাহেবের লেখা পড়লেই যে কেউ বুঝতে পারবে যে, কত সতর্ক হয়ে চলে তার কলম!
.
আবদুল মালেক সাহেবের মত মানুষ আসলেই বিরল। নিজের ভুল সবচেয়ে বেশি সংশোধন করেন তিনি নিজেই। যারা নিয়মিত “আল কাউসার” পড়েন, সকলেই দেখেন যে, অনেক সংখ্যায় তিনি সংশোধনি দেন। পিছনের সংখ্যায় কোনো তথ্যগত ভুল থাকলে সেটা সংশোধন করেন এবং যে তাকে অবগত করেছে, তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দোয়া করেন। তিনি ফতোয়া দিয়েছেন সাদ সাহেবের আনুগত্য করা জায়েজ নেই। কেন জায়েজ নেই? তার কারণ উল্লেখ করেছেন। আপনাদের মতে যদি তার আনুগত্য করা জায়েজ মনে হয়? তাহলে আদাবুল ইখতেলাফের প্রতি দৃষ্টি রেখে তার মতের খণ্ডন করুন। বাস্তবিক অর্থে তিনি ভুল করলে অবশ্যই তার মত থেকে ফিরে আসবেন? নচেৎ ইলমের এই সাগরকে কেন বিতর্কিত করার হীন চেষ্টা? সাদ সাহেবের ভ্রষ্টতা সম্পর্কে প্রথম ফতোয়া দিয়েছে তো খোদ দেওবন্দ মাদরাসা! তাহলে কি দেওবন্দও পাকিস্থান পন্থি? দুঃখে কলিজাটা ফেটে যাচ্ছে! সাদ সাহেবের মত নষ্ট ভ্রষ্ট লোকের পক্ষালম্বন করতে গিয়ে আমরা সর্বজন শ্রদ্ধেয় আল্লামা আবদুল মালেক সাহেবকে গালি দিলাম?
No comments
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ