উ | লূ | মু | ল | হা | দী | সে | র | পা | ঠ -৩
উ | লূ | মু | ল | হা | দী | সে | র | পা | ঠ -৩
শায়েখ হারুন ইযহার:
খবরে ওয়াহিদের
পরিভাষাগত প্রকারসমূহ :
(যঈ'ফ হাদীসের বাকি অংশ)
আমরা আগেই বলেছি এবং আরেকবার আপনাকে মনে করিয়ে দিচ্ছি যে, صحيح হাদীসের পাঁচটি শর্তের কোনটার ক্ষেত্রে যদি সুস্পষ্ট সমস্যা পরিলক্ষিত হয়
তাহলে হাদীস ضعيف বলে ধর্তব্য হবে।
উক্ত পাঁচটি কন্ডিশনের প্রত্যেকটার বিপরীত বিভিন্ন অবস্থা থেকে হাদীসের বেশির ভাগ অন্যান্য পরিভাষা ও নামগুলোর জন্ম হয়েছে।
তো আমরা সহীহর প্রথম শর্ত 'ইত্তিসালে সনদ'র বিপরীতে নির্গত হওয়া নানা অবস্থার প্রেক্ষিতে নানা পরিভাষার কথা আলোচনা করেছি।
এখন আমরা সহীহর দ্বিতীয় শর্ত 'আদালতে রাওয়ী' সহ অপরাপর শর্তের বিপরীত অবস্থা থেকে নির্গত হওয়া পরিভাষাগুলো বয়ান করব।
২.
আ'দালত/عدالة الراوي
এ শর্তটি নানা ভাবে উপেক্ষিত হতে পারে।
★موضوع
মিথ্যুক রাওয়ীর বর্ণনা, যে মনগড়া হাদীস রাসূল (সা.)'র দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে।
এটা মূলতঃ হাদীসের কোন প্রকারের মধ্যেই পড়েনা।
★متروك
কোন বর্ণনাকারী রাওয়ী যদি মিথ্যার গুণে অভিযুক্ত হয়। [ হাদীসটির বর্ণনাকারী একমাত্র ঐ রাওয়ী,অন্য কেউ নন এবং তা শরীয়াহ্-মূলনীতির বিরোধীও বটে। হাদীসে তার মিথ্যাচার প্রকাশিত না হলেও সাধারণ কথাবার্তায় সে মিথ্যুক হিসেবে পরিচিত]
★منكر
সনদের কোন রাওয়ী এমন হওয়া যার বর্ণনায় ত্রুটি প্রকট হয়, অথবা যার অমনোযোগিতা অধিক হয়, অথবা যার ফিসক প্রকাশ্য হয়।
★رواية المبتدع
রাওয়ী যদি বিদআ'হ্পন্থী হয় তবে এরকম হাদীসের জন্য আলাদা কোন পরিভাষা নেই। তবে এটি মারত্মক মরদূদ বা যঈ'ফ বলে প্রত্যাখ্যাত হবে যদি ঐ রাওয়ী বিদ্আহ্'র প্রচারক হয়।
★رواية المجهول
রাওয়ীর স্বত্ত্বা যদি অজানা হয় ( مجهول العين)অথবা তার অবস্থা যদি অজানা হয়(مستورالحال) তাহলে এমতাবস্থায়ও হাদীস দুর্বল হবে যতক্ষণ না তা নির্ভরযোগ্য জায়গা থেকে স্বীকৃত না হয়।
এরকম হাদীসের কোন পরিভাষাগত নাম নেই। তবে মাজহুলেরই একটি অংশ নিম্নের এ নামে পরিচিত -
★المبهم
অর্থাৎ রাওয়ী নাম সুস্পষ্টভাবে উল্লেখিত না হওয়া। সংগত কারণে এটিও যঈ'ফ বলে গণ্য হবে।
৩.
যবত/ضبط الراوي
[এ শর্তটিতে খুবই অল্প সমস্যা হলে অর্থাৎ নির্ভুল বর্ণনার ক্ষমতা ও স্মরণশক্তি পূর্ণরুপে বিদ্যমান হওয়ার ক্ষেত্রে খুব সামান্যতম বিচ্যুতি পরিলক্ষিত হলে তা যে حسن হিসেবে পরিচিত এ কথা আগেই উল্লেখ হয়েছে]
এ শর্তে বিচ্যুতি যদি প্রকট হয় তাহলে তা যঈ’ফের অন্তর্ভুক্ত হবে। তার পরিভাষাগুলো হলো;
★منكر
এটি যদিও আগে একবার উল্লেখ হয়েছে তথাপি এখানে আবার উল্লেখিত হচ্ছে কেননা মুনকার হওয়ার কারণ যেমন আ'দালত পরিপন্থী 'ফিসক' তদ্রূপ তার কারণ হলো যবত পরিপন্থী 'গলতে ফাহেশ' ও 'গফলত'।
উল্লেখ্য যে 'আদালত' এবং 'যবত' এ দুটো শর্তের লংঘন অনেক সময় এক সাথে হয়, কেননা দুটোর ক্ষেত্রই হলো রাওয়ী। তাই দুটোর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়কে সব সময় আলাদ করা যায়না।
★معلل/ معلول
মুআ'ল্লাল বা মা'লুল পরিভাষাটা ৫ম শর্তের বৈপরীত্য থেকে নির্গত। কিন্তু এটা আবার ৩য় শর্ত অর্থাৎ যবতের সাথেও সংশ্লিষ্ট। তার আলোচনা সামনে আসবে ৫ম শর্তের অধীনে।
★مضطرب
যবতের শর্ত বিনষ্টকারী একটি কারণ হলো مخالفة الثقات অর্থাৎ নির্ভরযোগ্য রাওয়ীদের বিরোধিতা হয়ে গেলে তার অনেকগুলো নাম আছে যেমন মুদরাজ, মাকলুব ইত্যাদী।
এখানে শুধু আপনাকে প্রসিদ্ধ একটি পরিভাষার সাথে পরিচয় করিয়ে দেবো।
মুদ্তারিব হলো ; যা পরস্পর বিপরীত বিভিন্ন পদ্ধতিতে বর্ণিত হয় এবং বর্ণনাগুলোর মধ্যে সমতা বিধান করা সম্ভব হয়না। সবদিক দিয়ে সমপর্যায়ের হওয়ার দরুন কোন এক বর্ণনার উপর আরেকটাকে প্রাধান্য দেওয়াও অসম্ভব।
৪.
সুজুয-মুক্ত হওয়া/عدم الشذوذ
★شاذ
উক্ত শর্তের বিপরীত হলে তাকে شاذ বলা হবে।
তার সংজ্ঞায় বলা হয় ;مخالفة الراوي لمن هو اوثق منه অর্থাৎ মকবুল রাওয়ীর বর্ণনা তার চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য রাওয়ীর বর্ণনার বিপরীত হওয়া।
৫.
ইল্লাত-মুক্ত হওয়া/عدم العلة
★ معلل
এ শর্তের বিপরীত হলে তাকে معلول/ معلل বলা হবে।
হাদীসর মধ্যে ইল্লত/علة হলো ;
هي عبارة عن اسباب خفية غامضة قادحة فيها (ابن الصلاح)
এমন সূক্ষ্ম ও অদৃশ্যমান কারণসমূহ যা হাদীসকে ত্রুটিযুক্ত করে।
কোন হাদীস মুআল্লাল হওয়ার এক অন্যতম কারণ হলো وهم অর্থাৎ ভুলবশত কোন সনদ বা মতন বয়ান করা
উল্লেখ্য যে রাওয়ীর যদি وهم এর ত্রুটি থাকে এবং তা আ'লামত দ্বারা প্রমাণিত হয় যেমন মুরসাল বা মুনকাতে'কে তিনি যদি মুত্তাসিল বানিয়ে ফেলেন তাহলে এটা সুস্পষ্ট তৃতীয় শর্ত বা 'যবত'র লংঘন। তো এক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে কিছু معلل এ দুটো শর্ত মিলে একটা হয়ে গেলো, ঐ যে منكر এর মতো।
No comments
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ