♥♥কুরআন তিলাওয়াত♥♥

কোরআন তিলাওয়াতে ইমান বৃদ্ধি পায়.....ঐশী বাণী পবিত্র আল কোরআন মুসলমানদের জীবন চলার পথের অপরিহার্য একমাত্র পথনির্দেশিকা।

মহিমান্বিত এই কোরআন মহানবী (সা.)-এর ওপর সুদীর্ঘ নবুয়তি জীবনের বাঁকে বাঁকে যখন যতটুকু প্রয়োজন, পর্যায়ক্রমে ততটুকু বিভিন্ন ঘটনায় মহান রাব্বুল আলামিনের অভিপ্রায় ও নির্দেশ জানিয়ে অবতীর্ণ হয়। পবিত্র কোরআন হয়তো একবারেও নাজিল হতে পারত, কিন্তু আল্লাহ পাক এটিকে জীবনমুখী একটি পাথেয় হিসেবে যাপিত জীবনের বিভিন্ন ঘটনা-দুর্ঘটনায় তাঁর কী বিধান তা জানাতে সংশ্লিষ্ট আয়াত তৎক্ষণাৎ অবতীর্ণ করে এর সঠিক ও যথার্থ প্রয়োগ দেখিয়েছেন। যে কারণে অন্য সব আসমানি কিতাবের ওপরে এর শ্রেষ্ঠত্ব ও এটি পুরোপুরি জীবনবান্ধব, জীবনঘনিষ্ঠ ঐশী নির্দেশিকা।

মহানবী (সা.) তাঁর জীবন সায়াহ্নে প্রায়ই তাঁর অনুপস্থিতিতে উম্মতে মুহাম্মদি না জানি পথহারা, বিভ্রান্ত হয়ে যায় এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন থাকতেন। যেহেতু তাঁর পরে কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো ওহি আসবে না। তাই তিনি বারবার তাগিদ দিয়েছেন পবিত্র কোরআন ও তাঁর রেখে যাওয়া সুন্নাহ আঁকড়ে ধরার।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের মাহাত্ম্য বর্ণনায় বলেন, ‘এটি আল্লাহর কিতাব। এতে কোনো সন্দেহ নেই। ওই মুত্তাকিদের জন্য হেদায়াত- যারা গায়েবে বিশ্বাস করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে খরচ করে’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২-৩)।
আর তাই তো পবিত্র কোরআন মুমিনের জন্য, মুত্তাকিদের জন্য সার্বক্ষণিক সঙ্গী, আগত-অনাগত সমস্যার সমাধান ও পূর্ণাঙ্গ হেদায়াত। আল্লাহ পাক বলেন, ‘(হে নবী!) এদের বলে দিন, যারা মুমিন, তাদের জন্য তো (এই কোরআন) হেদায়াত ও রোগের আরোগ্য বটে; কিন্তু যারা ইমান আনে না, এটা তাদের কানের জন্য বধিরতা ও চোখের জন্য অন্ধত্ব’ (সুরা : হা-মীম সাজদাহ, আয়াত : ৪৪)।

হাদিস শরীফেও কোরআন দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ এসেছে। হজরত নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘সুসংবাদ গ্রহণ করো। নিঃসন্দেহে কোরআনের একটি দিক আল্লাহর হাতে রয়েছে এবং আর একটি দিক তোমাদের হাতে দেওয়া হয়েছে। যত দিন তোমরা কোরআন দৃঢ়ভাবে ধারণ করে থাকবে, তত দিন তোমাদের কোনো ধ্বংস নেই- পথভ্রষ্টও হবে না’ (কানজুল উম্মাল দ্রষ্টব্য)।

পবিত্র কোরআন জীবনঘনিষ্ঠ ঐশী বাণী হওয়ায় এর সঙ্গে বন্ধুত্ব, সখ্য ও ভালোবাসা গড়ে তোলা মুমিনের জীবনের অপরিহার্য দাবি। কোরআনকে ভালোবাসতে হবে নিজের জন্য, জীবনের জন্য; ভালোবাসতে হবে সঠিক পথের দিশা হিসেবে। কোরআন ভালোবাসার মৌলিক দাবি হলো, এর পঠন-পাঠন ও তদনুযায়ী আমল করা। কোরআন যতই পড়া হয়, যত বারই তেলাওয়াত করা হয়, ততই এর সৌন্দর্য, সৌকর্য, মাধুর্য ও মর্মার্থ উঠে আসে গভীরভাবে।

নবী করিম (সা.) নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করতেন, বারবার কোরআন খতম দিতেন এবং সাহাবায়ে আজমাইনকেও এর তেলাওয়াতের তাগিদ দিতেন। হাদিস শরিফে এসেছে, নবী করিম (সা.) বলেন, ‘ হে লোক সব! নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করো। যাঁর হাতে আমি মুহাম্মদের প্রাণ রয়েছে, তাঁর শপথ করে বলছি- ক্ষুধার্ত উট চারণক্ষেত্রের দিকে যেরূপ দ্রুত ছুটতে থাকে, নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াতের আমল এর চেয়েও দ্রুতগতিতে সামনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে।’

একবার প্রিয় নবী (সা.) তাঁর প্রাণাধিক প্রিয় সাহাবি আবুজর গিফারিকে (রা.) এই মর্মে উপদেশ দিয়েছিলেন যে, তুমি অবশ্যই কোরআন তেলাওয়াত এবং আল্লাহর জিকির নিজের জন্য অপরিহার্য করে নেবে। কেননা এই আমল তোমার জন্য পৃথিবীতে নূর ও ঊর্ধ্বজগতে তোমাকে স্মরণ করার উপায় হবে (মিশকাত শরিফ)।

"""আমরা সকলেই আজ থেকে কোরআন তিলাওয়াত বেশি বেশি করবো "ইনশাআল্লাহ!
আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে কোরআন তিলাওয়াত করার তাওফীক দান করুক """আমীন।

No comments

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ

Powered by Blogger.