উলূমুল হাদীসের পাঠ -২

উলূমুল হাদীসের পাঠ -২
খবরে ওয়াহিদের
পরিভাষাগত প্রকারসমূহ
শায়েখ হারুন ইযহার:
এখানেই মানসিক চাপটা চলে আসে। এতগুলো পরিভাষার নাম আর সংজ্ঞাসহ কেমনে মুখস্ত রাখি!
একবার মুখস্ত করি তো কয়েকদিন পর তা বিস্মৃত হই।
তো কি সহজ উপায় আছে যার অবলম্বনে পরিভাষাগুলো সব অথবা বেশিরভাগ আত্মস্থ রাখা যায়?
আমরা আপনার জন্য সে চেষ্টাই করছি।
ইসলামী শরীআহ'র মৌলিক ভিত্তি মুতাওয়াতির /متواتر 'র উপর প্রতিষ্ঠিত। এককথায় এটা যেহেতু অকাট্য,সুতরাং এখানে নানা রকম শ্রেণি বিন্যাস ও নানা ক্যাটাগরি নির্ধারণের প্রয়োজন পড়েনা। তাই বেশির ভাগ হাদীসের মুসতালাহাত বা টার্ম বা পরিভাষাসমূহ آحاد সংশ্লিষ্ট।
আসুন সে আলাপে চলে যাই!
★এগুলো অর্থাৎ খবরুল ওয়াহিদ প্রথমত দুই প্রকার
১ মকবুল বা সহীহ (مقبول / صحيح)
২ মরদূদ বা জঈফ (مردود/ ضعيف)
★'সহীহ' কাকে বলে এটা ভাল করে বুঝলে অন্য সব প্রকারভেদ এমনি বুঝে আসবে :
[হাদীস মতে আমলের দাবীদার কতক সরলমনা ব্যক্তি মনে করেন সহিহ মানে সঠিক ও শুদ্ধ হাদীস। আবার তার মাপকাঠি তারা ধরে নেন ঔ সহীহুল বুখারী ওয়া মুসলিম ইত্যাদীকে]
★সহীহ কাকে বলে?
এ সংজ্ঞাটি দেয়া হয় ;
الحديث المسند الذي يتصل سنده بنقل العدل الضابط عن العدل الضابط الى منتهاه ولا يكون شاذا ولا ومعللا( ابن الصلاح)
সংজ্ঞার ভাষা হুবহু মুখস্থ করা জরুরি না। আপনাকে তার মূল কথাটাই বুঝতে হবে এবং সেটা নিজের ভাষায় বললে কোন আপত্তি নেই। মুখস্ত তোতাপাখির পড়াশুনার চাইতে এ পদ্ধতিটাই আপনাকে প্রকৃত আলেম হতে সাহায্য করবে
আসুন!
আমরা উপরের বাক্য বা ইবারতটা মুখস্ত না করে সোজাসুজিভাবে বলি ;
সহিহ হলো যেখানে পাঁচটা শর্ত পাওয়া যাবে। যথা;
1-اتصال السند
ইত্তিসালে সনদ:
অর্থাৎ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত  প্রত্যক বর্ণনাকারী সরাসরি তার উপরের বর্ণনাকারী থেকে হাদীসটা রেওয়ায়েত করবেন, সনদের পুরো সিরিয়ালে কোন রাওয়ী বাদ যাবেনা।
2- عدالة الراوي
আ'দালাত:
ঐ বর্ণনাকারীগণ কেউ فاسق/ফাসেক হবেননা, مروؤة/মানবীয় গুণাবলীহীন হবেননা।
3- ضبط الراوي
যাবত :
ঐ সকল রাওয়ীর “নির্ভুল বর্ণনার ক্ষমতা’ পূর্ণরুপে বিদ্যমান বলে প্রমাণিত।
4- عدم الشذوذ
শুযুয মুক্তি বা শায না হওয়া :
হাদীসটি অন্যান্য প্রামাণ্য বর্ণনার বিপরীত নয় বলে প্রমাণিত ।
5- عدم العلة
ই'ল্লাত মুক্তি :
হাদীসটির মধ্যে সূক্ষ্ম কোন সনদগত বা অর্থগত ত্রুটি নেই বলে প্রমাণিত।
★উক্ত পাঁচটি গুণ যথাযথভাবে পাওয়া গেলে তখন হাদীসটি صحيح বলে স্বীকৃত হবে।
যদি সবগুলো গুণ আর কন্ডিশন ঠিক থাকে তবে তৃতীয়টা অর্থাৎ যব্তের মধ্য অল্প সামান্য দুর্বলতা পরিলক্ষিত হয় তবে সেটা حسن বলে পরিচিত। এটা বলতে গেলে সহীহরই একটা নিচু প্রকার। [ সহীহ আর হাসানের মধ্য লিআইনিহি লিগায়রিহি নামে যে সুক্ষ ক্যাটাগরি গুলো আছে সেটা আপাতত আপনার জন্য অপরিহার্য জানার বিষয় না,পরে আলোচনা হলে চলবে]
★ যদি উক্ত পাঁচটি শর্তের কোনটার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট সমস্যা পরিলক্ষিত হয়
তাহলে হাদীস ضعيف বলে ধর্তব্য হবে।
এবার আসুন আপনাকে আমরা বলি  ضعيف হাদীসের এতো তাকসীম আর ভাগ এবং এগুলোর গ্রহণযোগ্যতার নানা ক্যাটাগরি কীভাবে সামনে আসলো?
★উক্ত পাঁচটা কন্ডিশনের প্রত্যেকটার বিপরীত বিভিন্ন অবস্থা থেকে হাদীসের বেশির ভাগ অন্যান্য পরিভাষা ও নামগুলোর জন্ম হয়েছে।
১.  ইত্তিসালে সনদ
একটা হাদীস সহিহ হওয়ার প্রথম কন্ডিশন ছিল এটা।
বর্ণনাকারী কোন না কোন স্তরে বাদ পড়ে গেল তখন তার কয়েকটা অবস্থা হতে পারে যেমন ;
★مرسل
যদি বর্ণনীকারী তাবেঈ' সনদের একদম শেষে যে সাহাবির নাম আছে তা বাদ দিয়ে সরাসরি রাসূল (সা.)'র দিকে হাদীসকে সম্বন্ধযুক্ত করেন।
★معلق
যদি বর্ণনাকারী একদম শুরুতে এক বা লাগাতার একাধিক রাওয়ীর/বর্ণনাকারীর নাম বাদ দেন।
★معضل
দুই বা ততোধিক বর্ণনাকারীর নাম সনদের কোন অংশে বাদ গেলে।
★منقطع
সনদের যেকোন অংশে যেকোন ভাবে বর্ণনাকারীর নাম বাদ গেলে।
""""""""""""""""""""""""""""""
আমাদের পরবর্তী আলোচনা হবে
সহীহের দ্বিতীয় কন্ডিশন অর্থাৎ عدالة الراوي এর বিপরীত মেরু থেকে বের হওয়া পরিভাষা সমূহ।
আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, হাদীসের এসব ইসতিলিহাত আর টার্মগুলো মুখস্ত করার টেনশন না করে সিরিয়াসলি صحيح
'র ঐ পাঁচটি কন্ডিশনের উপর নজর রাখুন এবং বারবার মনে করুন এগুলো সেই পাঁচটি গেইট যেগুলো দিয়ে বেশির ভাগ পরিভাষাগুলো শাস্ত্রের বাতায়নে প্রবেশ করেছে।
লেখক: মুহাদ্দিস, লালখান বাজার মাদরাসা,চট্টগ্রাম।

No comments

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ

Powered by Blogger.