শিক্ষার্থীদের ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে ওরা কারা?
শিক্ষার্থীদের ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে ওরা কারা?
--------------
আলী আজম:
শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত শব্দগুলোকে শুনতে অশ্লীল মনে হলেও আমি এতে অশ্লীলতা খুঁজে পাচ্ছিনা। কারণ এটা দীর্ঘদিনের চেপে রাখা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। যেটা আমাদের মতো ভদ্রভাষীরা ব্যবহার করতে পারিনি তা কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করে দেখিয়ে দিয়েছে। এবং বুঝিয়ে দিয়েছে রাষ্ট্রের সব সেক্টরের কর্মীরা যখন নির্লজ্জ হয়ে ওঠে তাদের উদ্দেশ্যে সুন্দর আর সাবলীল ভাষা প্রয়োগ মোটেও কাম্য নয়। আজকের এই বাংলার প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে এমপি, মন্ত্রী সবাই নির্লজ্জ। আর প্রশাসন! সেতো পাচাটা গোলামে পরিণত হয়েছে আওয়ামীলীগ জোরপূর্বক ক্ষমতায় আসার পর থেকে।
শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত এসব শব্দে আপনি খুঁজে পাবেন বাংলাদেশের হাল জামানার চিত্র। এসব শব্দ মোটেও অশ্লীল নয়। এসব শব্দ শৈল্পিক। এসব শব্দ অমায়িক। যেদেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে এমপি, মন্ত্রী এবং প্রশাসনের লোকদের দিন শুরু হয় মিথ্যা, অনিয়ম আর দুর্নীতি দিয়ে সেদেশের প্রশাসনের জন্য এরচেয়ে ভালো শব্দ ডিকশনারিতে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর বটে। এরচেয়ে ভালো শব্দ প্রয়োগ তাদের জন্য বেমানান বটে। দেশের প্রশাসনের কাজ হলো সবসময় দুর্বলের উপর চড়াও হওয়া। বিরোধী শক্তি দমন করা যাদের নিত্যনৈমিত্তিক কাজ তাদেরকে আপনি কোন সে ভাষায় ডাকবেন?
আজ যেসমস্ত সুশীলরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তারা প্রধানমন্ত্রী আর মন্ত্রীদের নির্লজ্জ সব লুটপাট ও মিথ্যাচারের সময় চুপ থাকেন কেনো? তখন তো কেউ এসব নির্লজ্জতা নিয়ে মোটেও প্রশ্ন তুলেন না! প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে গেলে অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ তখন স্বাভাবিক হয়ে যায়। ছাত্ররা যেসব ভাষা প্রয়োগ করছে যাচাই করে দেখুন তা প্রশাসন ও সরকারের প্রতি দেশের নব্বই ভাগ মানুষের ভাষা। মানুষ বাক স্বাধীনতা হারানোর কারণে এসব ভাষা প্রয়োগ করতে না পারলেও শিক্ষার্থীরা তা প্রয়োগ করে মূলত দেশবাসীর না বলা ভাষাগুলো নির্দ্বিধায় বলছে।
No comments
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ