বিদআতিরাই স্বীকৃতির গুরুত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে নাতো?

বিদআতিরাই স্বীকৃতির গুরুত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে নাতো?

আলী আজম

বহুল আলোচিত কওমী সনদের সরকারী স্বীকৃতি নিয়ে আমি এখনো দোদুল্যমান অবস্থায় আছি। কখনো মনে হয় এই আওয়ামীলীগ সরকার থেকে স্বীকৃতি নেওয়াটা মোটেও ঠিক হচ্ছে না। কারণ তারা যদি স্বীকৃতি দিয়েই দেয় তা হবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আর যদি স্বীকৃতির মুলা ঝুলিয়ে কওমীয়ানদের ধোঁকা দেয়া হয় তা হবে তাদের চিরাচরিত অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি। আওয়ামীলীগ তো ধোঁকাবাজিতে পটু তা নয়া করে বলার প্রয়োজন নেই। আওয়ামীলীগ যতোই স্বদিচ্ছা আর স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কওমী সনদের স্বীকৃতি বাস্তবায়ন করুক না কেনো, দিনশেষে দেখা যাবে তারা তাদের স্বার্থসিদ্ধিই করেছে।

কারণ আওয়ামীলীগকে বিশ্বাস করা আর কালসাপকে বিশ্বাস করা আমার কাছে সমানই মনে হয়। দিনশেষে দেখা যায় সুযোগ পেলে এই দুটো প্রাণী উপর্যুপরি চুবল মেরেই যায় এটা বারবার প্রমাণিত এবং এটাই চিরসত্য।
কওমী সনদের সরকারী স্বীকৃতি বাস্তবায়ন নিয়ে গোটা কওমী জগত এখনো আশা নিরাশার দোলাচলে দুলছে। যদিও কদিন আগে তা মন্ত্রীসভায় নৈতিক অনুমোদন দিয়েছে। কিন্তু এখনো তা সংসদে বিল আকারে পাশ হয়নি। অথচ এতেই অতুৎসাহী কিছুকিছু কওমীয়ানরা খুশিতে বগলা বাজাচ্ছে আর সাথে আওয়ামীলীগ এবং প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ আর অভিনন্দনবানে ভাসাচ্ছে!

যাক। এতে আমার মাথাব্যথা নেয়। মাথাব্যথাটা হলো, কওমী সনদের সরকারি স্বীকৃতি বাস্তবায়ন নিয়ে বাম এবং ধর্ম ব্যবসায়ী বিদআতি মাজারপন্থীদের অবর্ণনীয় জ্বালাপোড়া দেখে। কওমী সনদের স্বীকৃতি বাস্তবায়ন হলে কওমী অঙ্গন যতোটা লাভবান হবে তারচেয়ে বেশি লাভবান হবে আওয়ামীলীগ এটা জানা সত্ত্বেও যখন দেখি এই ধর্ম ব্যবসায়ীরা জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়ে যায় তখন সনদের সরকারি স্বীকৃতির গুরুত্বটা অনেকাংশে বেড়েই যায়। মনে হয় যে করেই হোক কওমী সনদের সরকারি স্বীকৃতির বাস্তবায়ন করাটা অতীব জরুরী। অন্তত তাদের জ্বলন্ত অঙ্গারে ঘি ঢালার জন্য হলেও।

আপনারাও কি তাই মনে করেন?

No comments

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ

Powered by Blogger.