বিক্ষিপ্ত আন্দোলনের শুরুটা ভালো হলেও শেষটা নয়
বিক্ষিপ্ত আন্দোলনের শুরুটা ভালো হলেও শেষটা নয়
-----------
আলী আজম:
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে সম্প্রতি গড়ে ওঠা আন্দোলনটা শুরু থেকে ছিল বিক্ষিপ্ত। অর্থাৎ এই আন্দোলন মূলত কারা পরিচালনা করছিল, কারাই বা দিকনির্দেশনা দিচ্ছিল তার সবকিছু ছিল অস্পষ্ট। যোগ্য নেতৃত্ব ব্যতীত কোনো প্রভাব বেশিদিন টিকে না। শুরুটা আশানুরূপ ভালো হলেও বিক্ষিপ্ততার দরুন তার শেষটা হয় অত্যন্ত মর্মান্তিক ও কষ্টদায়ক। এই আন্দোলনটাও শেষপর্যন্ত সে চিরাচরিত ভাগ্য বরণ করতে যাচ্ছে মনে হয়। শুরু থেকে আন্দোলনটা নিয়ে আশাবাদী থাকলেও ভয়টা কাজ করতো সবসময়। মনে হতো এইতো যেন বিপদ আন্দোলনকারীদের ঘিরে ধরছে। এইতো যেন তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ছে। তাইলে কি সেই শঙ্কায় বাস্তব বলে প্রমাণিত হতে যাচ্ছে শেষপর্যন্ত? আল্লাহ না করুন।
কিছুক্ষণ আগের খবর সাইন্সল্যাবে আন্দোলনরত চার ছাত্রী ছাত্রলীগ দ্বারা ধর্ষিত এবং জিগাতলায় বেশকজন ছাত্র নিহত ও আহত বলে শোনা যাচ্ছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জায়গাতে পুলিশের উপস্থিতিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের নগ্ন হামলার কথা শোনা যাচ্ছে। এসব শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও অবাস্তব নয় মোটেও। ছাত্রলীগ সুযোগ বুঝে তাদের চিরচেনা চরিত্র জাতির সামনে তুলে ধরবে এটা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। এতদিন তারা সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। আজ তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে সংহতি প্রকাশের নামে কৌশলে শিক্ষার্থীদের মাঝে অবস্থান নেয়। কোমলমতি সরলমনা শিক্ষার্থীরা আপন ভেবে ছাত্রলীগকে তাদের মাঝে ঠাই দেয়।আর ছাত্রলীগ তা সহজে কাজে লাগায়।
শুধু সংখ্যাধিক্য কিংবা দফা দিয়ে আন্দোলনে টিকে থাকা দুষ্কর। আন্দোলনে আখের ভালো হবার জন্য শর্ত হলো যোগ্য ও সুশৃঙ্খল নেতৃত্ব। ছাত্রদের এই আন্দোলন যদি পথ হারায় ধরে নিন তা বিক্ষিপ্ততার কারনেই হবে। আন্দোলনে সম্পৃক্ত বেশিরভাগ বাচ্চা ছেলেমেয়ে। যারা আবেগের আতিশয্যে আন্দোলনে শরীক হয়েছে। যারা জানেনা কোনো প্রতিরোধ কৌশল। তবে আন্দোলনটা অতি গুরুত্বপূর্ণ ও যৌক্তিক হওয়াতে দুর্বল শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন এতদূর এগিয়েছিল। কিন্তু যোগ্য নেতৃত্ব না থাকার কারণে এবার হয়ত তাদের উপর নামতে শুরু করেছে বিপর্যয়। আমার ভয় হয় এই আন্দোলনে যেসব শিক্ষার্থীরা মুখপাত্রের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। আল্লাহ আন্দোলনকারীদের সহায় হোন।
No comments
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ