তরুণরাই জাতির অসাধ্য সাধনের পারঙ্গম কারিগর।

তরুণরাই জাতির অসাধ্য সাধনের পারঙ্গম কারিগর।

আজিজুল হক ইসলামাবাদী

জীবনের এক বিশেষ অধ্যায়ের নাম তারুণ্য। শৈশবের ভীতিমুক্ত সময় পার করে কিশোর যখন বোধ ও সাহসিকতায় পরিপূর্ণ হতে থাকে তখনই তার গায়ে রং লাগে যৌবনের। সেই যৌবনই তাকে বিজয় ও সাফলতা এনে দেয়। তরুণ্যই আমাদের ঐতিহ্য ও গৌরবের ধন। তরুণ-যুবকদের হাতেই জাতির আলোকবর্তিকা। তারুণ্যেই আগামীর কর্ণধার। যুবসমাজ তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে অত্যন্ত সজাগ।  যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আগ্রহী। মানবিক জীবন ও আধুনিক ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে জ্ঞানের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর কর্ম কৌশলেও তারা পারদর্শী।
তরুণরা এক অসাধ্য সাধনের পারঙ্গম কারিগর। তারা বুজে কাজ। রাস্তায় বের হওয়ার সুযোগ পেলেই বোবা বালকটি রূপান্তরিত হয় সিংহ দলের যোদ্ধারূপে। মেতে ওঠে সৃষ্টি সুখের উল্লাসে। রাত কিংবা দিন, পাহাড় কিংবা জঙ্গল, মরু কিংবা সাগর কিছুই তাদের বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনা।  তারা হতাশবাদী নয়, তারা শতভাগ আশাবাদী।
ইতিহাসের সকল আন্দোলন সংগ্রাম বিজয় ও ঐতিহ্যের রূপকার হলো তরুণ সমাজ। মুসলিম জাহানের বিজয়ী সেনানায়ক হলো সাহাবী হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ রা.। জিব্রাল্টা পাড়ি দিয়ে স্পেনের বুকে ইসলামের বিজয় পতাকা উড়িয়ে ছিল তরুণ সেনাপতি তারেক বিন যিয়াদ। সিন্ধু পাড়ি দিয়ে ভারতবর্ষে ইসলামের মশাল জ্বালিয়ে ছিল যুবক সেনাপতি মোহাম্মদ বিন কাসিম। সতেরজন সৈনিক নিয়ে রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে বাংলার মানুষের মুক্তিদাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল তারুণ্য দীপ্ত সেনাপতি ইখতিয়ারুদ্দীন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী। ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে  বালাকোটের যুদ্ধের সেনাপতি ছিলেন, যুবক ইসমাঈল শহীদ। উপমহাদেশে ইংরেজ খেদাও আন্দোলনে ঐতিহাসিক শামেলীর যুদ্ধের তরুণ  সেনাপতি হযরত কাসেম নানুতবী ও আম্বালার যুদ্ধের সেনাপতি হাফেজ যামেন শহীদ। এটাই আমাদের ইতিহাস। সুতরাং ঈমানী চেতনা ও জিহাদী জযবা সম্পন্ন তারুণ্য দীপ্ত যৌবন যার সে কালের স্রোতে নিজেকে ভাসিয়ে দিতে পারেনা।

মুমিনদের ঈমান হলো, এই জমিনের মালিক একমাত্র আল্লাহ। সারা জাঁহানে প্রভুত্ব ও রাজত্ব তাঁরই। রাজ্য যার রাজত্বও চলবে তার।
মানুষের হয়াত, মওত, ইজ্জত সম্মান, ক্ষমতা, নেতৃত্ব সবই একমাত্র আল্লাহ রব্বুল ইজ্জতের হাতে। সুতরাং মুমিনের মাথা নত হবে শুধুই তারই সামনে। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে কোন শক্তির সামনে নিজেদের স্বকীয়তা বিসর্জন দিবেনা, দিতে পারেনা। দেশী বিদেশীদের কোন লোভ-লালসা, প্ররোচনা-প্রলোভন মুমিনকে কাবু করতে পারবেনা। আকাবির আসলাফদের এটাই শিক্ষা, এটাই আদর্শ। জগতের সকল নব্য ফিরআউন, সাদ্দাদ, নমরূদ, আবু জেহেল, আবু লাহাবদের সাথে ওয়ারিসে আম্বিয়া ওলামা, তোলাবা ও তাওহিদের নিশানবাহী মুসলিম, তরুণদের সাথে হক এবং বাতিলের সংঘাত ছিল, আছে এবং থাকবে। এদের সাথে আদর্শিক লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। ইহুদী খ্রিস্টান, বাম রাম, খোদাদ্রোহী কোন জালেমশাহীর পাঁতানো ফাঁদে পা দেয়া যাবেনা। এরা যতই শক্তিশালী হোক না কেন বিদ্রোহ করতে হবে।
মনজিলে মকসুদে পৌঁছার জন্য ইতিহাসের ওহুদ, বদর, খন্দক, হুনাইন, কারবালা  ময়াদানের স্টেশন পাড়ি দিয়ে আসতে হবে।
মুজাদ্দিদে আলফে সানী, শাহ আবদুল আজিজ, সৈয়দ আহমদ শহীদ, হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী, হাজী শরীয়তুল্লাহ, নিসার আলী তিতুমীর, হযরত কাসেম নানুতবী, শায়খুল হিন্দ মাহমুদুল হাসান, শায়খুল ইসলাম মাদানী রহিমাহুমুল্লাহ প্রমূখ মনীষীদের নীতি আদর্শ, ত্যাগ ও কুরবানীকে জীবন চলার পথেয় হিসেবে গ্রহণ করে নিতে হবে।

বর্তমান ইসলাম, দেশ ও জাতি গভীর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের স্বীকার। আধুনিক তরুণ প্রজন্মের নৈতিক চারিত্রিক অবক্ষয় এবং ধর্মীয় আদর্শিক  ভিত্তি ধ্বংস করার লক্ষে উগ্র সেক্যুলাবাদীরা নাস্তিকতাকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ছড়িয়ে দিচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে "যেমন নাচাও তেমন নাচি" পুতুল খেলা শুরু হয়েছে।
ভোট আর জোটের রাজনীতিতে বেচাকেনার হাটে গরম হাওয়া লেগেছে। একদল ক্ষমতাসীনদের কাছে নিজেদের লোক পরিচয় দেয়ার জন্য ক্ষমতার পিঠা ভাগে মত্ত। এই মুহুর্তে
ইসলাম ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায়  চেতনাসম্পন্ন তরুণ যুবকদের অদম্য প্রেরণায় এগিয়ে আসতে হবে। নেতৃত্ব কর্তৃত্ব নয়, অর্থ বৃত্ত, স্বার্থপরতা নয়, ঈমান, ইসলাম, তাহজিব তামাদ্দুন নিয়ে ভাবতে হবে।
মহান আল্লাহ, প্রিয় নবীজী সা.,পবিত্র আল কুরআন এবং ইসলামের যে কোন বিধানের ওপর আঘাত আসলে জীবন দিয়ে তা
প্রতিহত করতে প্রস্তুত থাকতে হবে। আলহামদুলিল্লাহ হাজারো প্রতিকুলতা স্বত্ত্বেও দেশের এক বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী মর্দে মুজাহিদের ভূমিকা পালন করে আসছে। এই শ্রেণী অতীতেও ছিল, এখনো আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে ইনশাআল্লাহ ।
২০১৩ সালে নাস্তিক ব্লগারদের বিরুদ্ধে যেভাবে তরুণরা এগিয়ে এসেছে, ৫ মে শাপলা চত্বরে রক্তের নজরানা পেশ করে যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিগত ৩১ আগষ্ট হাটহাজারীতে নাস্তিক আসাদ নুরের ফাঁসির দাবীতে হেফাজতে ইসলামের প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজনেও তরুণদের ভূমিকা প্রশংসনীয়। আমি আশাকরি, শুধু নাস্তিক আসাদ নুর নয় যত কুলাঙ্গার, ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠী এবং তাদের দোসর মুনাফিক রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সেসব তরুণ মর্দে মুজাহিদদের গর্জন আর হুংকারে রাজপথ উত্তপ্ত হবে। আল্লাহু আকবরের ধ্বনীতে আকাশ বাতাস মুখরিত হবে। বাংলার আকাশ থেকে সাম্রাজ্যবাদী, নাস্তিক্যবাদী, উগ্র সেক্যুলারবাদী কালো মেঘ দূরীভূত হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

No comments

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ

Powered by Blogger.