প্রয়োজন চিন্তার দৈন্যতা থেকে বের হওয়ার
হাবীব আনওয়ার:
কওমী মাদরাসা বর্তমান সময়ে ধর্মচর্চার প্রাণকেন্দ্র। কওমী মাদরাসাগুলো সরকারী অনুদান ব্যতিরেকে ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিদের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। দেশে প্রায় ৩০হাজারেরও অধিক কওমী মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা কয়েক লক্ষাধিক। যারা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এক সময় কওমী মাদরাসাগুলোতে সাধারণ শিক্ষার উপর বিভিন্ন বাধা-বাধ্যকতা থাকলেও এখন কিছুটা নমনীয় ভাব বিরাজ করছে। কওমী শিক্ষার্থীরা কওমী অঙ্গন পেরিয়ে কলেজ-ভার্সিটিগুলোতেও বিশেষ কৃতিত্ব সাক্ষর রাখছে। এমনকি আলেম হওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রকৌশলী হয়ে বিভিন্ন সেক্টরে ছড়িয়ে পড়ছে।
একসময় মানুষ কওমী মাদরাসাগুলো নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলতো।সমাজের বোঝা ভাবতো। সর্বদা অবজ্ঞার চোখে দেখতো! কিন্তু কওমী শিক্ষার্থীরা সর্বক্ষেত্র বিচরণ করে সেই মানুষগুলোর মুখে চুনকালি মেখে দিয়েছে।
কওমী ছাত্রদের এই কৃতিত্ব দেখে কওমী বিদ্ধেষীদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। গ্রহণ করছে নতুন নতুন কৌশল।
মিডিয়ার মাধ্যমে অপপ্রচার করে কওমী অঙ্গনকে স্তব্ধ করে দিতে লেলিয়ে দিচ্ছে শত শত মুন্নি শাহা'কে! হলুদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে জনগনের মনে বিষ ছড়াচ্ছে। আর আমরা মাঝে মাঝে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে লাফা-লাফি আর কষ্টে অর্জিত টাকা দিয়ে কিছু পত্রিকা কিনে আগুলে পোড়ালাম! তারপর নাক ডেকে ঘুম!
কিছুদিন পর আমাদের 'প্রিয়' পত্রিকাগুলো কওমি মাদরাসা ও কওমি ব্যক্তিত্বদের নিয়ে বিষাদঘার করে আসছে। তবু আমরা তাদের ত্যাগ করতে পারছি না।
মিডিয়ার মাধ্যমে অপপ্রচার করে কওমী অঙ্গনকে স্তব্ধ করে দিতে লেলিয়ে দিচ্ছে শত শত মুন্নি শাহা'কে! হলুদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে জনগনের মনে বিষ ছড়াচ্ছে। আর আমরা মাঝে মাঝে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে লাফা-লাফি আর কষ্টে অর্জিত টাকা দিয়ে কিছু পত্রিকা কিনে আগুলে পোড়ালাম! তারপর নাক ডেকে ঘুম!
কিছুদিন পর আমাদের 'প্রিয়' পত্রিকাগুলো কওমি মাদরাসা ও কওমি ব্যক্তিত্বদের নিয়ে বিষাদঘার করে আসছে। তবু আমরা তাদের ত্যাগ করতে পারছি না।
সর্বশেষ গত ক'দিন আগে কথিত মাওলানার কাছ থেকে ইয়াবা জব্দের পর থেকে আবারও মসজিদ-মাদরাসার দিকে আঙ্গুল তোলা হচ্ছে। একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নিয়ে ইসলামবিদ্ধেষী মিডিয়াগুলো আদা জল খেয়ে নেমেছে। আর আমরা প্রতিবারের ন্যায় হাই হুতাশ করছি।
একটা সময় ছিল, মিডিয়া লাইনে আমাদের অনেক কিছুর অভাব ছিল। কিন্তু সময়ে অনেক পরিবর্তন এসেছে। সব কিছুর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা হচ্ছে। মেধা, কর্মি, অর্থ-বিত্ত ও উদ্যোক্তা কোন কিছুর আর অভাব নেই। শুধু অভাব চিন্তার দৈন্যতা থেকে বের হয়ে আসার।
বেশ কিছু দিন ধরে কিছু তরুণের পক্ষে থেকে মিডিয়ার কথা উঠলেও বড়দের অনুমতির অপেক্ষার প্রহর আজও শেষ হচ্ছে না। কোনদিন হবে কিনা আল্লাহ ভালো জানেন।
আমাদের কওমী অঙ্গনে যে পরিমাণ সাংবাদিক আছে, ইচ্ছে করলে কমপক্ষে ১০টা পত্রিকা ইজিভাবে সামলাতে পারবো। শুধু দরকার যোগ্য একজন রাহবার।
হে আল্লাহ তুমি ব্যবস্থা করে দাও!
হে আল্লাহ তুমি ব্যবস্থা করে দাও!
পরিশেষে ফ্রান্স সম্রাট নেপোলিয়ানের সেই বিখ্যাত উক্তি দিয়ে শেষ করছি; "১লক্ষ সৈনিকের চেয়ে আমি তিনটি সংবাদপত্রকেই বেশি ভয় করি।"
লেখক: শিক্ষার্থী, মেখল মাদরাসা, হাটহাজারী,চট্টগ্রাম।

No comments
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ