ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় ;আমার দূর্গ আমাকে ফিরিয়ে দিতে হবে
ঢা কা বি শ্ব বি দ্যা ল য় ;
আমার দূর্গ আমাকে ফিরিয়ে দিতে হবে
আমার দূর্গ আমাকে ফিরিয়ে দিতে হবে
শায়েখ হারুন ইযহার
[গতবছর ১লা জুন লিখেছিলাম ]
আজ ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এটা ঠিক যে আমি মোল্লা। তাই বলে কি হাটহাজারীর বাইরে আমার চিন্তার অবকাশ থাকবেনা? তার সহজ উত্তরটা আমার জাতিসত্তার পরিচয়ের মধ্যে নিহিত। অর্থাৎ আমি মোল্লার আগে বাঙালী মুসলমান। 'মিল্লাতে ইব্রাহিম'এ আমার আত্মপরিচয়টা আরো জোরালো,আরো গভীর। মানে মুসলিম জাতীয়তাবাদের চেয়ে 'ইসলাম' পরিচয়টা আরো নিখুঁত,আরো খাঁটি। কিন্তু ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলমানের সংগ্রাম জিহাদী/ওয়হাবী আন্দোলন পরবর্তী সময়কালে ঐ নিখুঁত কন্সেপ্টের জায়গা থেকে আর পরিচালিত হয়নি। মোহামেডান ক্লাব থেকে পাকিস্তান পয়দা পর্যন্ত ইংরেজ সভ্যতা-বান্ধব মধ্যবিত্ত মুসলিম সমাজের স্বাধিকার আন্দোলনের ধারাবহিকতাগুলো আধুনিক খেলাফত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার স্থলে ইসলামকে অপ্রাসঙ্গিক রেখেই মুসলিম জাতিয়তাবাদের মানচিত্র ধরে এগিয়েছে।সে ধারাবাহিকতার অন্যতম একটা অধ্যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এটা ছিলো আদতে হিন্দু রিভাইবেলিজমের কাউন্টারে পাল্টা জাতীয়তার ডাক। এ মুসলমানিত্বের নেতৃত্বে ছিলেন মূলতঃ সৈয়দ আহমদ শহীদের চেতনার সক্রিয় মুখপাত্র ওলামা সমাজ নয়; বরং সে চেতনার সমর্থক পর্যায়ের মুসলিম স্বাধিকারপ্রেমী শ্রেণী, যাদেরকে ইতিহাস স্মরণ করে মধ্যবিত্ত মুসলিম সমাজ হিসেবে। ওলামারা ঠিকানা নির্মাণ করেছিেলেন দেওবন্দে। এটাই ছিল ইসলামের মূল ও বিশুদ্ধ চেতনা। এটাই ছিল সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী একশত ভাগ আপোষহীন আদর্শিক ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের আসল কেন্দ্র। তিক্ত সত্য হলো দেওবন্দ চেতনার জায়গায় যত সফল ততটা সফলকাম হয়নি ইসলামকে আধুনিক মলাটে রাজনীতি,শিক্ষা,আইন,অর্থনীতির সামগ্রিক কাঠামো হিসেবে সাম্রাজ্যবাদী, পুঁজিবাদি বিশ্বব্যবস্থার বিকল্প প্যাকেজ হিসেবে পেশ করার ক্ষেত্রে। এটার সুযোগ ছিল আধুনিক পশ্চিমা ব্যবস্থার সে আইডেয়োলজি ও কালচারকে বাদ দিয়ে টেকনলজি ও ভাষাকে রপ্ত করার তাগিদ সৃষ্টির মাধ্যমে। মধ্যবিত্ত মুসলিম বিকাশের মধ্যমণি স্যার সৈয়দ আহমদ ও তার ভাবশিষ্যদের মডার্ণ ইসলাম কিন্তু পশ্চিমা আইডিয়োলজি আর টেকনলজির তারতম্য না করেই মুসলামানের উন্নতির ভুল প্রেসক্রিপসন দিয়েছিল। এটার উপর দেওবন্দের যুক্তিসঙ্গত প্রবল আপত্তি ছিল। উল্লেখ্য যে
মূল্যবোধের জোরে নয়, ইংরেজ বিজ্ঞানের কাঁধে ভার করেই আমাদেরকে ডিঙিয়েছে।
আলেমদের কথায় কর্ণপাত না করে মধ্যবিত্ত মুসলিম সমাজ আধুনিকতাকে রপ্ত করেই দেশ ও জাতি মালিক হয়ে গেছে। এখন আলেমরা তাদের কাছে ধর্ণা দেয় এ আবেদন নিয়ে সে আবেদন নিয়ে। প্রত্যাখিত শ্রেণির কাছেই নিজেদের স্বীকৃতির ধর্ণা!
ভুলের ধারাবাহিকতায় নবুওয়তের বিপ্লবী দাওয়াতের কর্মসূচি না নিয়ে সুফিবাদী মানসিকতার সমাজ-বিমূখ যাত্রার দরুন ইংরেজ-বান্ধব ঐ শিক্ষিত মুসলিম মধ্যবিত্তের সাথে দূরত্বের খাল আরো বিস্তৃত হতে থাকে। অর্থাৎ শিক্ষক,আমলা,রাজনীতিক,চিকিৎসক,প্রকৌশলী,বিজ্ঞানী,আইনজীবি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা যায়নি। দেওবন্দ তার স্বকীয় ঐতিহ্যকে অক্ষুন্ন রেখে বৃহত্তর জাতীয় নেতৃত্বের লক্ষে আধুনিক শিক্ষালয় গুলোতে তার সেকেন্ড ফ্রন্ট খুলতে পারলে আজ ইতিহাস ভিন্ন প্রতিচ্ছবি বহন করত। প্রাচ্যর অক্সফোর্ডকে দক্ষিণ এশিয়ার আল্ আজহার নামেও মানুষ চিনত। দেওবন্দ তার একটি ডানার শিতল পরসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যসলয়কে ধন্য করলে 'কওমি' আজ একটি শক্তিশালী ধর্মতাত্ত্বিক গোষ্টী না হয়ে শক্তিশালী জাতীয় মূলধারায় পরিণত হতো। শাহবাগ-চেতনার জন্মের পথ রুদ্ধ থাকতো।
ইরান,ইখওয়ান আর জামাত এ ভুলটা করেনি। কিন্তু তারাও কি সফল? তারা কেবল প্রেক্টিসের পর্বে আছে, সে প্রেক্টিসকে আবার গিলে খেয়েছ গণতন্ত্রের রাজনীতি। দ্বিতীয়তঃ তারা হয়ে উঠতে পারেনি দেওবন্দের মত বিশাল সামাজিক আন্দোলন।কৌশলের নামে তারা নিজেরাই নিজেদের আত্মপরিচয়কে গৌন করে ফেলেছে। শিয়াবাদী ইরানে মোল্লাতন্ত্র আধুনিক কাঠামোর সাথে একটা চমৎকার আত্মিয়তা প্রতিষ্ঠা করেছে। সেটা আমার কাছে আংশিক পরিত্যাজ্য, আংশিক গ্রাহ্য। সমন্বয়ের আরো কিছু নজীর আছে কোথাও কোথাও।
মূল্যবোধের জোরে নয়, ইংরেজ বিজ্ঞানের কাঁধে ভার করেই আমাদেরকে ডিঙিয়েছে।
আলেমদের কথায় কর্ণপাত না করে মধ্যবিত্ত মুসলিম সমাজ আধুনিকতাকে রপ্ত করেই দেশ ও জাতি মালিক হয়ে গেছে। এখন আলেমরা তাদের কাছে ধর্ণা দেয় এ আবেদন নিয়ে সে আবেদন নিয়ে। প্রত্যাখিত শ্রেণির কাছেই নিজেদের স্বীকৃতির ধর্ণা!
ভুলের ধারাবাহিকতায় নবুওয়তের বিপ্লবী দাওয়াতের কর্মসূচি না নিয়ে সুফিবাদী মানসিকতার সমাজ-বিমূখ যাত্রার দরুন ইংরেজ-বান্ধব ঐ শিক্ষিত মুসলিম মধ্যবিত্তের সাথে দূরত্বের খাল আরো বিস্তৃত হতে থাকে। অর্থাৎ শিক্ষক,আমলা,রাজনীতিক,চিকিৎসক,প্রকৌশলী,বিজ্ঞানী,আইনজীবি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা যায়নি। দেওবন্দ তার স্বকীয় ঐতিহ্যকে অক্ষুন্ন রেখে বৃহত্তর জাতীয় নেতৃত্বের লক্ষে আধুনিক শিক্ষালয় গুলোতে তার সেকেন্ড ফ্রন্ট খুলতে পারলে আজ ইতিহাস ভিন্ন প্রতিচ্ছবি বহন করত। প্রাচ্যর অক্সফোর্ডকে দক্ষিণ এশিয়ার আল্ আজহার নামেও মানুষ চিনত। দেওবন্দ তার একটি ডানার শিতল পরসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যসলয়কে ধন্য করলে 'কওমি' আজ একটি শক্তিশালী ধর্মতাত্ত্বিক গোষ্টী না হয়ে শক্তিশালী জাতীয় মূলধারায় পরিণত হতো। শাহবাগ-চেতনার জন্মের পথ রুদ্ধ থাকতো।
ইরান,ইখওয়ান আর জামাত এ ভুলটা করেনি। কিন্তু তারাও কি সফল? তারা কেবল প্রেক্টিসের পর্বে আছে, সে প্রেক্টিসকে আবার গিলে খেয়েছ গণতন্ত্রের রাজনীতি। দ্বিতীয়তঃ তারা হয়ে উঠতে পারেনি দেওবন্দের মত বিশাল সামাজিক আন্দোলন।কৌশলের নামে তারা নিজেরাই নিজেদের আত্মপরিচয়কে গৌন করে ফেলেছে। শিয়াবাদী ইরানে মোল্লাতন্ত্র আধুনিক কাঠামোর সাথে একটা চমৎকার আত্মিয়তা প্রতিষ্ঠা করেছে। সেটা আমার কাছে আংশিক পরিত্যাজ্য, আংশিক গ্রাহ্য। সমন্বয়ের আরো কিছু নজীর আছে কোথাও কোথাও।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদিও বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদের 'মহৎ বর্বর' বা 'কালো ইংরেজ' তৈরির শিক্ষা প্রকল্পের অংশ ছিল,যেখানে মানবিকতার চেয়ে রাজনৈতিক স্বার্থের উপলদ্ধিটা আসল কথা। তথাপি হিন্দু পুনরুজ্জীবনবাদের বিপরীতে ভারসাম্য রক্ষার্থে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজে মুসলিম মেরুকরণ সৃষ্টির লক্ষে এবং বিশেষতঃ বঙ্গভংগের ক্ষতিপূরণ স্বরুপ দেয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপঢৌকন! গ্রহন ছাড়া উপায় ছিলনা। এটা সে সময়ের বাস্তবতা ছিল। ইংরেজ শিক্ষা-ব্যবস্থায় আমরা দুটো বাস্তবতার মুখোমুখি একদিকে এটা আদর্শিক লক্ষ্যে সফল সেকুলার বুদ্ধিবৃত্তিক এজেন্ডা যা মুসলমানকে খৃষ্টান না বানালেও মুসলমানিত্বকে নড়বড়ে করে দিতে সক্ষম। অন্যদিকে রাজনৈতিক লক্ষ্যে তা ব্যর্থ পরিকল্পনা যেটা ইংরেজদের জন্য বুমেরাং হয়ে মুসলমানের জন্য শিক্ষিত চাকরের স্থলে ক্ষমতাসীন ইংরজে থেকে স্বাধিকার আদায়ের পথ সুগম করে দেয়।
ইংরেজের ফিজিক্যাল বিদায় তথা পাকিস্তান পর্বের সুচনা ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে সংখাগরিষ্ট গণচেতনার সন্মানে ইসলামইজেশনের সুযোগকে আরো শাণিত করেছিল। তার স্বকীয় মানও বৃদ্ধি পেয়েছিল। বাংলাদেশ পর্বে তার নানা বৈচিত্রময় রুপান্তর ঘটে বিশেষতঃ সংস্কৃতিক চেতনার প্রশ্নে ইসলাম ও বাঙালী সেকুলারিজমের সংঘাতের মধ্য দিয়ে।
ইংরেজের ফিজিক্যাল বিদায় তথা পাকিস্তান পর্বের সুচনা ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে সংখাগরিষ্ট গণচেতনার সন্মানে ইসলামইজেশনের সুযোগকে আরো শাণিত করেছিল। তার স্বকীয় মানও বৃদ্ধি পেয়েছিল। বাংলাদেশ পর্বে তার নানা বৈচিত্রময় রুপান্তর ঘটে বিশেষতঃ সংস্কৃতিক চেতনার প্রশ্নে ইসলাম ও বাঙালী সেকুলারিজমের সংঘাতের মধ্য দিয়ে।
যাহোক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদিও ইসলামী প্রকল্প নয়, কিন্তু তার প্রতিষ্ঠার পটভূমিতে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী,নওয়াব সলিমুল্লাহ,শেরে বাংলা ফজলুল হক-সহ মধ্যবিত্ত মুসলিম নেতৃবৃন্দের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সে মুসলিম স্মৃতি আর ঐতিহ্য আজ বিশ্ববিদ্যলয়ের পৌত্তলিক ভাস্কর্যগুলোর তলায় কি পিষ্ট হচ্ছেনা?সেখানে কি শিল্পকলা আর চারুকলার কোলাহলে শুনা যায় মুসলিম জাতীয়তার জয়গান? সেখানে কেন আজ ইসলামী সংগঠনগুলো কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা? কেন সেখানে প্রতিভার সা্বক্ষর রাখা সত্ত্বেও মাদ্রাসা ছাত্রদেরকে পিছনে ঠেলে দেয়া হয়?
হিন্দু জাতীয়তাবাদী পুনরুজ্জীবনের পটভুমিতে সৃষ্ট অপরিহার্য মুসলিম জাতীয়তাবাদের ঐতিহাসিক প্রয়োজনে যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনা, তার অঘোষিত দখল নিয়েছে মুসলিমবিদ্বেষী -পৌত্ত্বলিক প্রেতাত্মা নিয়ন্ত্রিত বাঙালী সেকুলার গোষ্টী।
আমার দূর্গ আমাকে ফিরিয়ে দিতেই হবে। কেননা বাংলার হাজার বছরের পঞ্জিকায় সেকুলারিজমের কোন ইতিহাস নেই।
লেখক: মুহাদ্দিস, জামিয়াতুল উলূম লালখান বাজার মাদরাসা।
No comments
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ