ঘৃণার জবাব হোক ভালবাসা

দাওয়াতি মিম্বার -৪

ঘৃণার জবাব হোক ভালবাসা

মাওলানা মুফতি আবদুল্লাহ নাজীব -হাফিযাহুল্লাহ:

মুসলমান হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো, নিজ ঈমানকে দৃঢ় ও নিরাপদ রাখা।এবং অন্যের মাঝে কোনো ‘মুনকার’ বা অন্যায় দেখলে তা দুর করার চেষ্টা করা। সাধ্যানুযায়ী অন্যদেরকে ইসলামের প্রতি দাওয়াত দেয়া। আর এ প্রতিটি কাজ সম্পাদনের জন্য ইসলামে রয়েছে সুন্দর আদর্শ। এর বিবরণ কুরআন-হাদীসে সবিস্তারে রয়েছে। আমাদের আকাবির ও আসলাফের জীবনেও তা প্রতিফলিত হয়েছে।

এখানে শুধু একটি বিষয়ে পাঠক ভাইদের দৃষ্টি আকর্ষণকরতে চাচ্ছি। সম্প্রতি সর্বত্র ইসলামকে নিয়ে বিদ্ধেষ ছড়ানো হচ্ছে। কখনো ইসলামকে গাল-মন্দ করা হচ্ছে, কখনো মুসলমানকে। আমাদেরকে এর সমুচিত জবাব দিতে হবে। তবে কীভাবে ? ইসলামী আদর্শ বজায় রেখে না কি আদর্শকে কুরবান করে? কিছু ভাইয়ের আচরণ ও উচ্চারণ দেখে আফসোস করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। তারা বিদ্ধেষীদের গাল-মন্দ দেখে ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে তাথ্যিক জবাবের পরিবর্তে ঐ গাল-মন্দকেই যুৎসই মনে করেন।ভুলে যান ‘ইসলামী আদর্শ’কে।ফলে শুরু হয় কাদা ছোড়াছোড়ি। এতে বিদ্ধেষীরা আরও খুশি হয়। এবং একথা বলার সুযোগ পায় ‘দেখো! ইসলামপন্থীদের জবাবে তথ্য নেই আছে শুধু আক্রোশ।’

আমাদের স্বরণ রাখা উচিত, ইসলামতো ফিরআউনের মত অবাধ্য কাফেরকে দাওয়াত ও তার তীর্যকমূলক কথার জাবার দেয়ার ক্ষেত্রে নির্দেশ দিয়েছে, فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَيِّنًا(তোমরা -মূসা ও হারূন আলাইহিমাস সালাম- গিয়ে তার সাথে ন¤্র কথা বলবে। সূরা ত্ব-হা, আয়াত ৪৪)। আর যদি কারো কথা উত্তর দেয়ার অযোগ্য হয় বা সমুচিত জবাবের সুযোগ না থাকে  এবং ফলপ্রসূ হবে না বলে মনে  হয়, এ ক্ষেত্রগুলোতে ইসলামের নির্দেশনা হলো, وَإِذَا خَاطَبَهُمُ الْجَاهِلُونَ قَالُوا سَلَامًا (অজ্ঞলোক যখন তাদেরকে লক্ষ করে -অজ্ঞতাসূলভ- কথা বলে, তখন তারা শান্তিপূর্ণ কথা বলে। সূরা ফোরকান, আয়াত ৬৩ )

সালাফের জীবনীতে এ আদর্শের প্রায়োগিক অনেক নমূনাই পেশ করা যায়। আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আর উল্লেখ করলাম না। আগ্রহীরা ‘আদাবুল হিওয়ার’ বিষয়ক কিতাব দেখে নিতে পারেন। এখানে শুধু একটি নমূনা উল্লেখ করা যথেষ্ট মনে করছি।

আমাদের সর্বশ্রদ্ধেয় ও মান্যবর ব্যক্তি মুফতী শফী রাহ.। তিনি কাদিয়ানী ধর্মমতের বিরুদ্ধে ‘খতমে নবুওয়াত’ নামে একটি অনবদ্য কিতাব রচনা করেন। এ কিতাবের ভূমিকায় মির্জা কাদিয়ানী কর্তৃক আমাদের আকাবিরদেরপ্রতি অশালীন মন্তব্যের প্রতিউত্তরে লিখেন, ‘ওয়াল্লাহ, বিল্লাহ, এ কিতাবের উদ্দেশ্য আমার জ্ঞানের বহিঃপ্রকাশ নয়। এবং আকাবিরদের প্রতি অপবাদমূলক অবমাননার প্রতিশোধও নয়। আমরা তাদের অশালীন মন্তব্যের জবাবে এটুকু বলবো,
وقل لِغُلام إن شتمتَ سُراتنا فلسنا بشتّامين للمُتشتم
(গোলাম কাদিয়ানীকে বলে দাও যে, যদি আমাদের আকাবিরকে গালি দাও তো দাও। আমরা গালির প্রতিউত্তরে গালি দেই না)’
কাদিয়ানীর মত ধর্মান্তরিত ব্যক্তি, যে আমাদের আঘাত করেছে; গাল-মন্দ করেছে। তার প্রতিউত্তরে কী মহৎ আন্দায নির্বাচন করা হলো! এটাই আমাদের আকাবির-আসলাফের আদর্শ। আমাদের মনে রাখতে হবে, ঘৃণা ঘৃণাকেই জন্ম দেয়। আর ভালোবাসা ভালোবাসাকে। সুতরাং ঘৃণার জবাব হোক ভালোবাসা। এতে নিহিত আছে কল্যাণকামিতা।

১৫/১১/১৪৩৯হি.

No comments

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ

Powered by Blogger.