ক্লাসে ফিরে যাও, সুখি-সমৃদ্ধ দেশ গড়তে নিজেকে প্রস্তুত করো

ক্লাসে ফিরে যাও, সুখি-সমৃদ্ধ দেশ গড়তে নিজেকে প্রস্তুত করো

হাবীব আনওয়ার

এমন সফল ও সুশৃঙ্খল সুন্দর আন্দোলন পৃথিবী হয়তো কোন দিন দেখেনি!
কোন প্রকার জ্বালাও-পোড়াও ছাড়া, নেতৃত্বহীন একটি আন্দোলন এমন ভাবে সফল হবে কেউ হয়তো কখনো কল্পনাও করেনি।

সবাই সাধারণ ছাত্র।বয়স আর কতোই বা হবে, পনেরো কুড়ি! রাজনীতির সাথে জড়িত হওয়া তো দূরের কথা, রাজনৈতিক কোন ধারণাও নেই অনেকের।এ আন্দোলন ছিল না কোন দল,জাতি কিংবা গোষ্ঠির বিরুদ্ধে।এ আন্দোলন ছিল সুস্থ ভাবে পথ চলার তাগিদে।ছিল মানুষ হিসাবে মানুষের ব্যথায় ব্যথিত হওয়ার অনুভবে।সহপাঠী হারানোর শোককে সামলাবার। তাদের দাবিগুলো ছিল না কোন রাষ্ট্র বিরোধী কিংবা কোন দল বিরোধী।ছিল সতের কোটি মানুষের প্রাণের দাবি।ছিল মানবতার এক মহা দৃষ্টান্ত স্থাপনের দাবি।ছিল অহিংস আন্দোলন। কিন্তু শুরু থেকেই শান্ত এই আন্দোলনকে অশান্ত করার হীন কৌশলে লিপ্ত ছিল এলিট শ্রেণীর(!)  একটি উশৃংঙ্খল দল।শুধু অপেক্ষায় ছিল গড ফাদারের হুকুমের।অবশেষে পেয়েও গেল।তবে হুকুমটা দেওয়া হলো কৌশলে ছাত্রদের বোঝানোর কথা বলে।তারপর? তারপর শুরু হলো বুঝানো তবে মাথায় হাত বুলিয়ে নয়, পাছায় লাথি মেরে! রাজপথ রক্তাক্ত করে।এভাবেই প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষগুলোর বাক স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে!

একটি দেশ! বাংলাদেশ।অনেক রক্ত নদী পেরিয়ে অর্জিত হয়েছে।দিতে হয়েছে অনেক প্রাণ ও সম্ভ্রম।তবুও পিছু হটেনি।পাকিস্তানিদের জুলুম নির্যাতন আর মাত্রাতিরিক্ত বৈষম্যের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল এদেশের ছাত্র সমাজসহ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ।অবশেষে জয় পেয়েছে '৫২ ভাষা আন্দোলনে।'৭১ এ স্বাধীনতা যুদ্ধে।তাদের স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা-দারিদ্র্য, দুর্নীতি-দুঃশাসন,জুলুম-নির্যাতন মুক্ত সুখি- সমৃদ্ধ একটি দেশ গড়ার।কিন্তু তা কি হয়েছে?!

এদেশের আপামরসাধারণের ঘাম ঝরানো ট্যাক্সের টাকা দিয়ে সরকার,আমলা,প্রসাশনসহ প্রায় সব খাত চলে।পুলিশ আইন শিখাবে, জনগণ শিখবে।মন্ত্রীরা আইন প্রণায়ণ করবে, জনগণ তা মানবে।তবে তার আগে পুলিশ ও আমলাদের মানতে হবে।অথচ আমাদের দেশে...!

ছোট-ছোট বাচ্চারা অবাক করে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে! যা পারেনি করতে আমাদের প্রসাশন তা দেখিয়েছে তারা করে। নিজেরাই পালন করেছে পুলিশের ( পুলিশ নয় দেশ প্রেমিকের কাজ।কারণ,পুলিশ কখনো গাড়ি আটকায় না, অগত্যা আটকালেও টাকার বিনিময়...!
তাই ছাত্রদেরকে পুলিশ বলে ছাত্র জনতার এই অবদানকে খাটো করতে চাই না!) কাজ।গাড়ির লাইসেন্স চেক, ড্রাইভারের লাইসেন্স চেক, ইমার্জেন্সি লেনসহ অনেক প্রশংসাযোগ্য কাজ।যা তাক লাগিয়ে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে!

এদেশে সকল অপরাধের  নাটের গুরু যে আমলা ও  আইন  বাহিনী, এটা এতদিন অস্পষ্ট থাকলেও এবার তা পরিস্কার হয়ে গেছে।সাংবাদিক,পুলিশ, মন্ত্রী, সেনাবাহিনীসহ সকলের আইন না মানার বিষয়টি বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিয়েছে এই দেশ প্রমিক ছাত্র বন্ধুরা।

প্রিয় ছাত্র ভাইয়েরা! এবার অনেক হয়েছে।এখন ক্লাসে ফিরে যাও।পড়া-লেখায় মন দাও।সুন্দর সুখি-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নিজেকে প্রস্তুত কর।তোমরা সফল হয়েছো।দেশবাসীকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছো।অপরাধীদের চিহ্নিত করেছো।ধন্যবাদ তোমাদের। অভিনন্দন তোমাদের!

লেখক: শিক্ষার্থী মেখল মাদরাসা, হাটহাজারী,চট্টগ্রাম।

No comments

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ

Powered by Blogger.