আলোচিত আন্দোলনের ইতি টানা উচিৎ মনে করছি
আলোচিত আন্দোলনের ইতি টানা উচিৎ মনে করছি
-------------
আলী আজম:
নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বেশ কদিন ধরে চলে আসা বহুল আলোচিত সাড়া জাগানো বিরল এই আন্দোলন সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই পর্যায়ে এসে ইতি টানা উচিৎ মনে করছি নানান কারণে।আন্দোলন করে ফ্যাসিবাদী এই সরকারের কাছ থেকে কেউ পূর্ণ দাবি আদায় করেছে এমন নজির নেই বললে চলে। ইতোপূর্বে যতগুলো ছোট-বড় আন্দোলন হয়েছে তার বেশিরভাগের সমাপ্তি ঘটেছে ভয়াবহ সংঘাত কিম্বা মিথ্যে আশ্বাসের মধ্য দিয়ে। ফ্যাসিবাদী সরকার প্রতিটি আন্দোলন শেষে নিজের কালো চেহারা জাতির সামনে কীভাবে উপস্থাপন করেছে তাও সকলের জানার কথা। অতীতের কালো অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি এই আন্দোলনেও হবে না এর গ্যারান্টি কেউ কি আদৌ দিতে পারবেন?
অতীতের আন্দোলনগুলো পুনরায় একবার দেখে নিন। সেই ঐতিহাসিক হেফাজতের আন্দোলনের কথা-ই না হয় ধরা যাক। হেফাজতের নাস্তিক বিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন সরকারের এমপি, মন্ত্রীরা নানানভাবে হেফাজতের নেতাদের আশ্বস্ত করতে চাইলো তারা দাবি মেনে নিবে। এবং বললো আন্দোলন থেকে সরে আসার জন্য। নাছোড়বান্দা হেফাজত তখন আওয়ামীলীগের অতীতের ভাঁওতাবাজির কথা মনে করে বললেন, আগে দাবি বাস্তবায়ন হোক। তারপর আন্দোলন বন্ধ হবে। যখন ফ্যাসিবাদী সরকার দেখলো মিথ্যে আশ্বাসে এই হেফাজতকে থামানো যাবে না তখন তারা কী করলো? গেলো বর্বর একশনে। রচনা করলো দেশের ইতিহাসে কালো এক অধ্যায়। খালি করলো অসংখ্য মায়ের বুক।
এর পরবর্তী ইতিহাস সবার জানা। এভাবে কওমী সনদ স্বীকৃতি থেকে শুরু করে দেশে আরো যতো আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে এর সবগুলো কেবল মিথ্যে আশ্বাসের মধ্যেই সমাপ্তি ঘটেছে।এছাড়া একটারও পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়ন ঘটেনি। যেমন ধরুন এইতো কিছুদিন আগে ছাত্ররা কোটা বিরোধী আন্দোলন করলো। দেশব্যাপী সেই আন্দোলন আলোড়ন সৃষ্টি করলো।সেই আন্দোলন এক পর্যায়ে তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠলো। পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা দিয়ে দিলেন "সব কোটা বাতিল"। এতে বিক্ষোভকারী ছাত্ররা খুশি হয়ে প্রধানমন্ত্রীর নামে "হিমিউনিটি ফর এডুকেশন" লক্বব লাগিয়ে দিলো।অথচ এর কিছুদিন যেতে না যেতে সেই ছাত্রদের সাথে কী আচরণ করা হলো সবার জানা।
"নিরাপদ সড়ক চাই" নামে সাত দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন সম্প্রতি গড়ে তুলেছে তার আখেরটা যে অতীতের ব্যতিক্রম হবে তা আমার মনে হচ্ছে না।কারণ এই আন্দোলন ইতোমধ্যে শুধু পরিবহণ সেক্টরের দুই নাম্বারি ও অনিয়মের কথা জাতির সামনে তুলে ধরেছে তা নয়। এই আন্দোলন সরকার, পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে বিচারপতি, ও এমপি মন্ত্রীদের মান ইজ্জতের বারোটা বাজিয়ে ছেড়েছে। পরিহরণ সেক্টরে কতপ্রকার অনিয়ম চলছে তা শিক্ষার্থীরা জাতিকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। অথচ ফ্যাসিবাদী আওয়ামীলীগ সরকার এতদিন টুকটাক আন্দোলন প্রতিরোধ করলেও অনেককিছু চোখ বুঝে সহ্য করেছে। এখন তাদের মান নিয়ে টানাটানি। এই মুহূর্তে তারা চুপ থাকবে ভাবা ভুল।
আন্দোলনের সফলতা ইতোমধ্যে জাতি পেয়ে গেছে তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সরকার প্রশাসন যদি এই আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে পরিবহন সেক্টরে অনিয়ম দূরীকরণে কাজ করে তাহলে এর ফল জাতি দীর্ঘদিন পর্যন্ত ভোগ করতে পারবে। তবে এই আন্দোলনের বড় পাওয়া হলো সচেতনতা সৃষ্টি করা।এতে করে চালকদের পাশাপাশি গাড়ি মালিক এবং যাত্রীরাও অনেক সাবধান হবে মলে মনে হয়। যে কারণে এই পর্যায়ে আন্দোলনের ইতি টানা উচিৎ। প্রথমত এটা আওয়ামীলীগ সরকারের মুখে ভয়াবহ চপেটাঘাত। দ্বিতীয়ত পুলিশের জন্য বড় কলঙ্কের কারণ। তাই পুলিশ কাল থেকে একশনে যাবে।তাছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের দায়ভার নিবেন না বলে দিয়েছেন। ওদিকে ছাত্রলীগ, শ্রমিকলীগ মাঠে হাজির।
সবদিক বিবেচনায় এই আন্দোলনের ইতি টানা উচিৎ।
No comments
আপনাকে অনেক ধন্যবাদ