ইমরান খান নয়, আলাপের বিষয় পাকিস্তানের স্ট্রাটেজিক নীতি :

ইমরান খান নয়, আলাপের বিষয়
পাকিস্তানের স্ট্রাটেজিক নীতি :

মুফতী হারুন ইযহার

রাষ্ট্রপ্রধানের ব্যক্তিগত চরিত্রের মহত্ব রাষ্ট্রের সাফল্যের মর্ম বহন করেনা। রাষ্ট্রের জাতীয় মূলনীতি কি?এবং সে মূলনীতির রক্ষণাবেক্ষণ ও তার গতিশীলতা রক্ষায় যথাযথ কর্তৃপক্ষ বা মহল কে?  এ সবের উপর রাষ্ট্রের সাফল্য নির্ভর করে।

ইমরান খানের মহত্বের নানা উপাখ্যান যেভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে তাতে মনে হয় পাকিস্তান এখন বিপ্লেবের পথে ধ্বাবিত বুঝি!

আসলে কি ঘটেছে পাকিস্তানে? খবরের  অন্তরালের খবর হলো পাকিস্তানের একটা স্থীর জিওপলোটিক্যাল স্থীর নীতি আছে। সে নীতির আসল সমীকরণটা হলো ভারতীয় আধিপত্যের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করেই।
পাকিস্তান আমরিকার প্রাচীন মিত্র, সে মৈত্রী নষ্ট হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভারতপ্রীতির সর্বসমকালীন নীতির কারণে। বিশেষত যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প সরকারের আফগান নীতি ঘোষণার পর থেকে যেখানে ভারতের বন্দনা ছিল পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদববিরোধী হুশিয়ারির পাশাপাশি।
মার্কিন- ভারত নব্য মিতালির কাউন্টারে পাকিস্তান পাল্টা সখ্য গড়ে তুললো রাশিয়া চায়না তুরস্ক আর ইরানের সাথে। এতে পাকিস্তানের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি হয়েছে বেশী। তালেবানের লাগাতার মারপিটে আমরিকা এখন দিশেহারা। পাকিস্তানকে ক্ষেপিয়ে তোলার নগদ  মাশুল দিতে হল আমেরিকাকে।

কূটনীতির এ জটিল মেরুকরণে পা ফসকে গেলে পাকিস্তানের পরাজয় নিশ্চিত।
মিয়া নেওয়াজ শরীফের দাপট কম না। কিন্তু তার কূটনৈতিক পারঙ্গমতা এবং মিলিটারির সাথে সমন্বের যোগ্যতা বরাবরি অপরিপক্ব ছিল।
ঐতিহ্যগত ভাবেই পাকিস্তানের মূল স্ট্রাটেজিক নীতির রক্ষক হিসেবে মিলিটারিই পরিচত। রাজনৈতিক কোন নেতৃত্ব সে জায়গায় পৌঁছর যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি।
বি জে পির সাথেও নেওয়াজ শরীফের সাবেক সখ্যকে এখনো সন্দেহের চোখে দেখা হয়। এইটাতে পাকিস্তানের জন্য স্ট্রাটেজিক ত্রেট আছে। কেননা বি জে পি আমরিকার মিত্র।
মূলত এসব বিবেচনায় পাকিস্তানে পরিবর্তন দরকার ছিলো। মনে হয় পাকিস্তানের আভ্যন্তরীণ উন্নয়ন এবং সুশাসনের চেয়ে আঞ্চলিক সামরিক স্ট্রাটেজিই মুখ্য মনে করে আর্মি।

পাকিস্তানের সমকালীন মার্কিন বিরোধী নীতি খুব ভাল কথা। তবে  জাতীর সার্বিক অগ্রগতিতে প্রয়োজন একটা সামগ্রিক প্রকল্প। সে প্রকল্পে আভ্যন্তরীণ উন্নতি এবং আঞ্চলিক স্ট্রাটেজি সবটাইতো অন্তর্ভুক্ত।
কিন্তু সেনাবাহিনীর উষ্ণ মস্তিষ্ক থেকে এমন এক সামগ্রিক পরিকল্পনা  ও সেভাবে জাতীয় নেতৃত্ব প্রদান অসম্ভব।
আগেই বলেছি নেওয়াজ অথর্ব, অথচ সুযোগ পেয়েছিলেন।
আফসোস, দেয়ার ইজ নো লিডারশীপ ইন পাকিস্তান।

পাকিস্তানের বর্তমান স্ট্রাটেজিকে বিচার করতে হবে মুসলিম উম্মাহর স্বার্থের ভবিষ্যৎ লাভ-ক্ষতির বিবেচনায়। আলাপের বিষয় এটা। ইমারান কোন আলাপের বিষয় হওয়ার যোগ্যতা রাখেনা।
ইসলাম বিশ্বব্যাপী এগুচ্ছে ধংসযজ্ঞে পর্বত পাড়ি দিয়ে নিশ্চিত এক বিনির্মাণের পথে...
আমার কথায় আপনারা আস্থা রাখুন! আমি বলছি, অরাজকতার ভেতর দিয়েই নিশ্চিত এক বিজয়ের দিকে অগ্রসরমান রয়েছে বৈশ্বিক ইসলাম। সে বিজয় রাষ্ট্রিক কাঠামোর মধ্য থেকে হওয়া জরুরী নয়।

লেখক:মুহাদ্দিস, লালখান বাজার মাদরাসা চট্টগ্রাম।

No comments

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ

Powered by Blogger.