ওয়াজের নামে যা হয় সবকিছু ওয়াজ নাকি আওয়াজ?

ওয়াজের নামে যা হয় সবকিছু ওয়াজ নাকি আওয়াজ?

আলী আজম

সামনে আসছে বাংলাদেশে ওয়াজ মাহফিলের মৌসুম। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই সময়টাকে জোরেশোরে চলে ছোটবড় অসংখ্য ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন। এসব দেখে মনে হয় সত্যিই বাংলাদেশ একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম রাষ্ট্র। যেদিকে যাই আমরা ওয়াজের সুর শুনতে পাই। ব্যাপারটা খারাপ না। ভালো। খুবই ভালো। এভাবে যদি বাংলাদেশে ধর্মীয় বিষয়াদি নিয়ে মাঠে ময়দানে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন না হতো, তাহলে মানুষ কতো আগে ঈমানহারা হয়ে যেতো! এখনো দেশে ধর্মীয় বিষয়াদি নিয়ে ও বাতিলের বিরুদ্ধে হক্কানী উমালায়ে কেরাম সর্বদা জোরালো কণ্ঠে আওয়াজ তুলেন বিধায় শত ষড়যন্ত্র চক্রান্তের পরেও ইসলাম সমহিনায় বহমান।

তবে প্রশ্ন থাকছে দেশে ওয়াজ মাহফিলের নামে যা হয় তার সবকিছু কি ওয়াজ নাকি কিছুকিছু আওয়াজও হয় সেটা নিয়ে। দেখা যাচ্ছে অতীতের তুলনায় বর্তমানে দেশে ধর্ম চর্চা, ওয়াজ মাহফিল, ইসলামী সভা সেমিনার অনেক বেশি হচ্ছে। অথচ তার তুলনায় মানুষ হেদায়াত পাচ্ছে না। এসবের কারণ কী? কারণ হিসেবে প্রথমত দেখা যায় ওয়ায়েজীনদের তাক্বওয়ার বড় অভাব। তারা মাহফিলে সুরেলা কণ্ঠে পবিত্র কোরআন সুন্না'হর বাণী  মানুষকে শোনালেও মানুষের ঈমান আমলের কোনো পরিবর্তন সাধারণত লক্ষ্য করা যায় না। মাহফিলের আয়োজন যারা করে তারাও মাহফিল শেষে সে আগের মতোই রয়ে যায়। সুপথে ফিরে আসার সংখ্যা খুব কম।

এসবের পিছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আগেকার যুগের ওয়ায়েজীনরা ওয়াজ করতেন দরদ নিয়ে। সব মানুষের হেদায়াতের ফিকির নিয়ে। ওয়াজের নামে চিল্লাফাল্লা ও অহেতুক কিচ্ছা কাহিনী বয়ান করতেন না তারা। শুধু কোরআন সুন্নাহ আর কুসংস্কার ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। পয়সা কামানো তাদের ইচ্ছে ছিল না কখনো। পয়সা দিলে নিতেন। না দিলেও তারা ওয়াজ করতেন। যার কারণে তাদের বয়ান শুনে মানুষ হেদায়াত পেতো। ফিরে আসতো দ্বীনের পথে। অথচ এখন এতো ওয়াজ মাহফিল হওয়া সত্ত্বেও মানুষ পাইনা সেই কাঙ্ক্ষিত হেদায়াত। দিনদিন গুমরাহি বাড়ছেই।

এখনকার ওয়ায়েজীনদের বেশিরভাগ ওয়াজ করেন যশ খ্যাতি আর টাকার জন্য। উম্মতের দরদের চেয়ে তাদের কাছে টাকার দরদ বেশি। তাই তারা ওয়াজের আগেই টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। মাত্রাতিরিক্ত দর কষাকষি করে থাকেন। যারা এসব করেন তাদের বেশিরভাগ গলা ব্যবসায়ী। যাদের ওয়াজে কোরআন সুন্নাহ'র আলোচনার চেয়ে বেশি থাকে কিচ্ছা কাহিনী ও গলাবাজি। তাদের অনেকে আবার হেলিকপ্টার ছাড়া মাহফিলে যান না। যারা হেলিকপ্টার বক্তা হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেছেন। যাদের চাহিদা তুলনামূলক খুব বেশিই। মাহফিলগুলো তারা ছাড়া যেন মানব শূন্য।

ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই সময়টাতে জোরসে চলে ওয়াজের নামে মাত্রাতিরিক্ত আওয়াজ ও গলা ব্যবসা। আর সেসব গলাবাজ বক্তারা জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির জন্য মাহফিলে উত্তেজনা সৃষ্টি করে থাকেন। পাবলিক ও যুব সমাজের কাছে যে বক্তা যতো বেশি চিল্লাফাল্লা ও গরম শ্লোগান তুলাতে পারেন সে ততো বড়ো বক্তা। ততো বড়ো আলেম। মাহফিল আয়োজকরা মূলত লোকসমাগম বৃদ্ধির জন্য এসমস্ত গলাবাজ বক্তাদের দাওয়াত দিয়ে থাকেন। আর মাহফিলে মাত্রাতিরিক্ত সাইন্ডের ব্যবহার প্রশ্ন তোলার মতো। সব মিলিয়ে এসব ওয়াজ হয়ে যায় আওয়াজ। হয় না হেদায়াতের কারণ।

এসব বিষয় মাথায় রেখে বক্তা সিলেকশন করা উচিৎ।

No comments

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ

Powered by Blogger.